গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে দাবি করে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা জনগণকে বাধ্য করেছেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাবের (বিধি-৬২) ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।
পার্থ বলেন, আমাদের জুলাইয়ের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়ার একটা পায়তারা দেখতে পাচ্ছি। ঠিক আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে পড়ে যায়। আমরা যদি কোন কথা বলতাম, বলেতো যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমরা বলতাম তেলের দাম কত? যুদ্ধাপরাধের বিচার চায় না। আমি অনেকখানি ওই আচারণটা দেখতে পাচ্ছি।
জুলাই সনদের সঙ্গে কোন সমস্যা না থাকলেতো প্রক্রিয়া (বাস্তবায়ন) নিয়ে নিয়ে সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেন পার্থ বলেন, আপনারা কোন প্রক্রিয়ায় করতে চাচ্ছে? আমাদের নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) আগে থেকেই দেওয়া। আপনারা সে সময় বিপ্লবী সরকার করেন নাই কেন? সাধারণ সরকারে গেলেন কেন? অন্তর্বর্তীকালীন বিপ্লবী সরকর করতেন। ছিঁড়ে ফেলে দিতে সংবিধানকে। নতুন করে সংবিধান বানাতেন। পুরানো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধানকেই বাতিল করে দিতে চাচ্ছেন। এটা আসলে হয় না।
বাহাত্তরে সংবিধান তৈরির সময়ে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কমাতে যেয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীপরিষদের ক্ষমতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছি। এ কারণে আমরা অনুধাবন করেছি পরিবর্তনের। আমরা মনেকরি পরিবর্তন প্রয়োজন। সংবিধান ও জুলাই সনদকে সমন্বয় করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোথা হতে আসছে এমন প্রশ্ন তুলে আন্দালিভ রহমান বলেন, সচরাচর আমরা যেভাবে সংবিধান পরিবর্তন করি, আমরা সেখানে থাকতে চেয়েছি। আমরা সেভাবে করব। আপনারা বসেন, আমাদের আপত্তি আছে। সেগুলো নিয়ে কথা বলি। গণভোটে ৭০ শতাংশ হ্যাঁ ভোট পড়লেও, সংবিধান পরিবর্তনের জন্য ৫১ শতাংশ তাদের (বিএনপি জোট) দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিতে জনগণকে বাধ্য করা হয়েছে দাবি করে আন্দালিভ রহমান বলেন, আপনারা জনগণকে বাধ্য করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে শ্রদ্ধা করেন জানিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি। এখানে আমার ভাইয়েরা অনেক বেশি কষ্ট করেছে। আমরা জেলে গিয়েছি, আন্দোলনে ছিলাম, ২০ দলে ছিলাম, চার দলে ছিলাম, অনেক আগে থেকে। আমরা চাই না, কিন্তু একটা প্রক্রিয়া, সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দাও। সংবিধানকে ছুড়ে ফেলব কেন? সংবিধান কি মনে করায় দেয় ৭১ এর পরাজয়ের দলিল। আমি সংবিধান কেন ছুড়ে ফেলে দেব? এই সংবিধান দিলে গাত্রদাহ কেন হবে? আমিতো পরিবর্তন করতে পারি, কেন ছুঁড়ে পেলে দেব।
এনসিপির উদ্দেশে তিনি বলেন, এনসিপি যে আমাদের দল, আমাদের হিরোরা, যারা যুদ্ধ করেছেন, যারা এখানে আছেন, তাদেরকেও বলে দিই, আপনারা জেন জিকে প্রতিনিধিত্ব করেন। জামায়াত জেনারেশন হয়ে যায়েন না। এনসিপি ইতিবাচক রাজনীতি নিয়ে আসবেন।







