৭ নভেম্বরকে সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলে ৫ আগস্টের ঘটনাকেও বিপ্লব হিসেবে মানতে আপত্তি কোথায়— এমন প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়ির আইনজীবী শিশির মনির।
তিনি বলেছেন, ‘৫ আগস্টের আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের কৃতিত্ব মেনে নিতে না চাওয়ার কারণেই কেউ কেউ ওই ঘটনাকে বিপ্লব না বলে গণ-অভ্যুত্থান বলতে চান।’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক দৈনিক বাংলা ২৪ এর পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাকে এসব বলতে শোনা যায়।
শিশির মনির বলেন, “দেখবেন, একটা তর্ক তৈরি হয়েছে—এটা বিপ্লব নাকি অভ্যুত্থান? ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব, আর ৫ আগস্ট নাকি বিপ্লব নয়। তাহলে বিপ্লব সম্পর্কে আপনাদের এবিসি ধারণাও নেই। হোয়াট ডাজ রেভল্যুশন মিন? রেভল্যুশন কাকে বলে?”
তিনি বলেন, “কয়েকজন সেনাসদস্যের সঙ্গে জনগণ মিলে একজন ব্যক্তিকে মুক্ত করে নিয়ে এসেছিলেন, মানুষ রাস্তায় নেমেছিল এবং মানুষের আকাঙ্ক্ষার পরিবর্তন হয়েছিল। সেই ঘটনাকে সিপাহি-জনতার বিপ্লব বলা হলে ৫ আগস্টের ঘটনাকে বিপ্লব বলতে আপত্তি কেন? ৭ নভেম্বরের ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের নেতৃত্ব ছিল, কিন্তু ৫ আগস্টের আন্দোলনে তাদের নেতৃত্ব না থাকায় এ নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি তো এখানে নেতৃত্ব দিইনি, সামনের সারিতে কোনো লোক ছিলাম না, কোনো দায়িত্ব নিইনি। আমি নিজে লুকিয়ে থাকিনি, কষ্ট করিনি, নিজের জীবন বিসর্জন দিইনি। আমার সন্তানকে তো আমি মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিইনি। আমি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, আমরা তাদের সমর্থক ছিলাম, আমরা তাদের পাশে ছিলাম; কিন্তু আমরা নেতৃত্বে ছিলাম না। এই সত্য বলতে অসুবিধা কোথায়?”
সিনিয়ির আইনজীবী বলেন, “সিপাহি-জনতার বিপ্লবের কথা বললে যেমন নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম সামনে আসে, তেমনি ৫ আগস্টের জনতার বিপ্লবের কথাও বললে কয়েকটি নাম সামনে আসে। বিশেষ করে ৩ আগস্ট শহীদ মিনারের সমাবেশের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেখানে কয়েকজন তরুণের বক্তব্য মানুষের মধ্যে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।”
তার ভাষ্য, “চোখ বন্ধ করলেই ৩ আগস্টের শহীদ মিনারের সমাবেশের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে কিছু টগবগে তরুণের কথা, যারা বক্তব্য দিচ্ছে। যাদের কথার প্রতিটি শব্দ স্ফুলিঙ্গের মতো, যাদের কথার প্রতিটি ধার মনে হয় কলিজার একদিকে ঢুকে বিদীর্ণ করে গুলির মতো আরেকদিকে বেরিয়ে যায়। আমরা ছিলাম সেই বার্তার বাস্তব গ্রহীতা।”
শিশির মনির বলেন, “৫ আগস্টের আন্দোলনে যারা হৃদয়স্পর্শী ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তাদের কৃতিত্ব মেনে নিতে না চাওয়ার কারণেই কেউ কেউ ওই ঘটনাকে বিপ্লব হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চান না। এ কারণে তারা ৫ আগস্টের ঘটনাকে বিপ্লব না বলে গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে অভিহিত করেন। ৫ আগস্টের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে মানুষের যে আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটেছে, পরবর্তী গণভোটে জনগণ সেই আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভোট দিয়েছে।







