বিএনপির প্রয়াত নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা জীবনের শেষ পাঁচ বছর দেশে ফিরতে পারেননি। বাবা-মায়ের কবর শেষবারের মতো দেখা এবং এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করতে না পারার কষ্ট নিয়েই তিনি বিদায় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন আয়োজিত কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।
বাবার শেষ সময়ের স্মৃতিচারণা করে ইশরাক জানান, ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর নিউইয়র্কে মৃত্যুর আগে শেষ তিন-চার দিন হাসপাতালে বাবার পাশে ছিলেন তিনি। তখন তার বাবা খুব বেশি কথা বলতে পারতেন না। তবে বাবার চোখের চাহনি দেখে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তার মনে অনেক কষ্ট ছিল।
ইশরাক আরও জানান, তার বাবা দীর্ঘ ৪০ বছর এই এলাকায় রাজনীতি করেছেন। কিন্তু জীবনের শেষ পাঁচ বছর দেশে ফিরতে পারেননি। নিজের বাবা-মায়ের কবরও শেষবারের মতো দেখতে পারেননি। এলাকার মানুষের সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করতে না পারার কষ্টও তাকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাড়িয়ে বেড়িয়েছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আব্বা একটা কথা অনেক সময় বলতেন, আমার মনে হয় বাক্সবন্দি হয়ে দেশে যাইতে হবে। শেষ মুহূর্তে সেটি সত্য হয়। তিনি বাক্সবন্দি হয়ে দেশে আসেন।’
তিনি জানান, এখন তিনি নিজেও রাজনীতির মাঠে আছেন। এলাকার মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। এক মাসের জন্যও দেশের বাইরে থাকতে হলে এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত ফিরে যাওয়ার তাগিদ অনুভব করবেন তিনি। তার বাবা দীর্ঘ পাঁচ বছর দেশে ফিরতে পারেননি। এই বিষয়টিই তাকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কষ্ট দিয়েছে।
সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, বাবা অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোশ করেননি। নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকারের প্রশ্নেও আপস করেননি। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অবিচল ছিলেন তিনি।







