জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্যার এ এফ রহমান হলের তৎকালীন সাথী ও ছোটভাই বলে দাবি করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আবদুল হান্নান মাসউদের পাঠানো একটি পুরোনো অডিও প্রকাশ করে তা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
গতকাল রবিবার (১ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া একটি পোস্টের কমেন্টে শাকিল এসব কথা বলেন।
ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যে রেজাউল করিম শাকিল লেখেন, “সেই রাতে রেজাউল করিম শাকিল এজেন্সির চোখ ফাঁকি দিয়ে তিন সমন্বয়ককে উদ্ধার না করলে এজেন্সি আমার হলের ছোটভাই (এফ রহমান হলের তৎকালীন সাথী) মাসু্উদকে ধরে নিয়ে ইয়ে লাল করে দিত।”
এদিকে, পুরোনো একটি অডিও যুক্ত করে ফেসবুকে পোস্ট শেয়ার করেন শাকিল। সেখানে আবদুল হান্নান মাসউদকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, “মাসুদ উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে এই ভয়েসটা কাকে পাঠিয়েছিল? শিবির সভাপতি সাদিক কায়েমকে? নাকি ছাত্রলীগ নেতা সাদিক কায়েমকে? লাস্টের কয়েক সেকেন্ড শোনা নিষেধ।”
পোস্ট করা অডিওটি আবদুল হান্নান মাসউদ সাদিক কায়েমের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন শাকিল। তার দাবি, অডিওটি জুলাই আন্দোলনের সময়ের।
অডিওতে আবদুল হান্নান মাসউদ বলতে শোনা যায়, “ভাই, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আছি। সেখানে আমরা মোটামুটি আটকে আছি। আমাদের এম্বাসি থেকে জানানো হয়েছে, আমরা এখন নিরাপদ নই। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা আমাদের নিরাপত্তা দিতে চাচ্ছেন এবং আমাদের জন্য এম্বাসির পক্ষ থেকে একটি সেফ হাউস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “এখন দ্রুত আমাদের সমন্বয়কদের নাম, কোথায় কী ঘটেছে—এসব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। আমাদের নামে বিভিন্ন মামলা হয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ এসব মামলার তথ্য চাওয়া হয়েছে। হল থেকে যেসব মামলা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর তথ্যও চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের কার কী অবস্থা, কাকে গুম করা হয়েছে, কাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এসব ঘটনার ডকুমেন্টসহ তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারা হামলা করেছে, পুলিশ কোথায় গুলি করেছে—এ ধরনের যাবতীয় তথ্য ও ডকুমেন্ট জরুরি ভিত্তিতে সংগ্রহ করতে হবে।”
বক্তব্যে আরও শোনা যায়, “এসব তথ্য আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে সংগ্রহ করে দ্রুত আমাদের কাছে পাঠাতে হবে। বিষয়টি খুবই জরুরি। তারা চাচ্ছেন, আজকের মধ্যেই আমাদের জন্য সেফ হাউস তৈরি করে সেখানে নিয়ে যেতে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, যদি আমরা ঢুকে যাই, তাহলে পরে এই সার্জিসরা আন্দোলনের প**** মেরে দেবে। মানে হচ্ছে, ওরা তো বুঝেন, আমাদের ঢুকানোর ইয়েতে আছে। আসেন নাই, ভাইরা তো নিয়ে গেছে।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ‘দ্য রমজান শো’র ৩০তম পর্বে এনসিপির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ জুলাই আন্দোলন, রাজনৈতিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন নেতাকে নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি সাদিক কায়েম ও ফরহাদ হোসেনের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “আমি একটা কথা বলি আপনাকে। আমরা তখন সাইমুম সাদিক আর সাদমান সাদিক—এই দুজনের সঙ্গে শিবিরের প্রতিনিধি হিসেবে যোগাযোগ করতাম। আর ছাত্রদলের প্রতিনিধি হিসেবে যোগাযোগ করতাম রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাসিরুদ্দিন নাছিরের সঙ্গে। নামগুলো খেয়াল করুন, আবারও বলছি—সাইমুম সাদিক ও সাদমান সাদিক হলো শিবিরের প্রতিনিধি, আর ছাত্রদলের প্রতিনিধি হলেন নাসিরুদ্দিন নাছির ও রাকিবুল ইসলাম রাকিব।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্টের পরে গিয়ে জানতে পেরেছি যে, সাইমুম সাদিক ও সাদমান সাদিকের মধ্যে একজন হলেন ফরহাদ ভাই এবং অন্যজন সাদিক কায়েম। ৫ আগস্টের ঘটনা না ঘটলে উনারা যে শিবিরের সভাপতি-সেক্রেটারি ছিলেন, তা আমরা জানতাম না; কিন্তু ছাত্রদলের কারা সভাপতি-সেক্রেটারি ছিলেন এবং কারা সহযোগিতা করেছিলেন, তা আমাদের জানা ছিল। এই কথাগুলো বলার পেছনের মূল বার্তাটি আপনারা আশা করি বুঝে নিয়েছেন।”
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন না ঘটলে সাইমুম সাদিক ও সাদমান সাদিককে খুঁজে বের করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হয়তো পাঁচ বছর পেরিয়ে যেত, আর তাদের সঙ্গে হয়তো টেলিগ্রামেও যোগাযোগ হতো, হোয়াটসঅ্যাপেও নয়। এমনকি তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের সহজে বের করতে পারত না। পক্ষান্তরে, হান্নান মাসুদ, রিফাত রশিদ, মাইন সরকার, আব্দুল কাদের, রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাসিরুদ্দিন নাছিরদের খুব সহজেই এক নামে খুঁজে পাওয়া যেত। কথাটি কি আপনাদের বোঝাতে পেরেছি?”