সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এক প্রবাসীর অর্ধকোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা ইটভাটা দখল, উৎপাদিত ইট বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র গাজী আক্তারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত নেতা। তার দাবি, আইন মেনেই তিনি ইটভাটাটি লিজ ও ক্রয় করেছেন।
ভুক্তভোগী প্রবাসী রাজু আহমেদ খানের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশের নোটিশ থাকার পরও গাজী আক্তারুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে ইটভাটাটি পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি সেখানে থাকা তার প্রায় সাত লাখ ইট বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলারোয়ার কাজীরহাট চিতলা এলাকায় অবস্থিত ‘পারুল ব্রিকস’ নামের ইটভাটাটি আগে পরিচালনা করতেন পুটুনি গ্রামের আলমগীর হোসেন। ব্যবসায় লোকসানের মুখে পড়ে তিনি ইটভাটার ৫০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রবাসী রাজু আহমেদ খান ইটভাটাটির ৫০ শতাংশ শেয়ার কেনেন। ভাটার মোট মূল্য ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করে তিনি নগদ ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় বলে জানা যায়।
পরবর্তী সময়ে অপর অংশীদার আলমগীর হোসেন ব্যক্তিগত ঋণের দায়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেলে ইটভাটাটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ সময় স্থানীয় জমির মালিকেরা আলমগীরের আগের ঋণের টাকা রাজু আহমেদের কাছে দাবি করতে থাকেন। পরিস্থিতির কারণে রাজু আহমেদ আবারও বিদেশে ফিরে যান।
রাজু আহমেদের অভিযোগ, তার অনুপস্থিতির সুযোগে কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা গাজী আক্তারুল ইসলাম স্থানীয় জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে পাঁচ বছরের জন্য ইটভাটাটি লিজ নেন। আলমগীর কিংবা তার কাছ থেকে কোনো অনুমতি বা বৈধভাবে মালিকানা হস্তান্তর ছাড়াই তিনি ভাটাটির দখল নেন বলেও অভিযোগ করেন রাজু।
সাংবাদিক সম্মেলনে রাজু আহমেদ খান বলেন, “আদালতের ১৪৫ ও ৮৮ ধারার নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশের নোটিশ থাকার পরও গাজী আক্তারুল ইসলাম তা অমান্য করে ইটভাটার দখল বজায় রেখেছেন।” তার আরও অভিযোগ, জমির মালিক আব্দুল হামিদ, আতিয়ার রহমান ও জনাব আলীর সহযোগিতায় ভাটায় রেখে যাওয়া প্রায় সাত লাখ ইট বিক্রি করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, মূল মালিকদের অনুমতি কিংবা বৈধ লিজ ছাড়া কীভাবে একজন রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ইটভাটাটি দখল করে পরিচালনা করছেন? নিজের কষ্টার্জিত অর্থে কেনা ইটভাটার ৫০ শতাংশ মালিকানা ও বিনিয়োগ ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
অন্যদিকে, ইটভাটা দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা বিএনপি নেতা ও সাবেক মেয়র গাজী আক্তারুল ইসলাম। তিনি বলেন, আইন মেনেই ইটভাটার মূল মালিক আলমগীরের স্ত্রী পারুল বেগম এবং জমির মালিকদের কাছ থেকে এটি লিজ ও ক্রয় করেছেন। রাজু আহমেদের সঙ্গে আলমগীরের কোনো আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কলারোয়ার চিতলা এলাকার পারুল ব্রিকস নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইটভাটায় নিজের বিনিয়োগ ও মালিকানার অংশ ফিরে পেতে এখন আইনি সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন প্রবাসী রাজু আহমেদ ও তার পরিবার।