কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার এক যুগ পর সরকারিভাবে মুক্তিযোদ্ধার খেতাব পান আলোচিত মানিক পশারী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ২০২৩ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয় মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক গেজেটে এ তথ্য জানা যায়।
তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মুহম্মদ রেহান উদ্দিন সাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২ (২০২২ সনের ১৫ নং আইন) এর ৬। (খ) ধারা অনুযায়ী প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধার তালিকা, সরকার এতদ্বারা Rules of Business 1996 Schedule-1 এর তালিকা ৪১ এর ৫নং ক্রমিকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৭৭তম সভার আলোচ্যসূচি ০৫ এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মানিক পশারীকে বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাব প্রদান করা হলো।
সম্প্রতি মানিক পশারীর এই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রাপ্তি এবং তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় জনতার মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর মানিক পশারীর মৃত্যুর পর পিরোজপুরে তার মরদেহ পৌঁছালে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র জনরোষ দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে তার দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়।
পিরোজপুরের স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন ও মির্জা জহিরুল হক দাবি করেছেন, মানিক পশারী প্রকৃতপক্ষে কোনো মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা সাক্ষ্য’ দেওয়ার পুরস্কার হিসেবে প্রায় ১২ বছর পর তাকে এই মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও গেজেটভুক্ত করা হয়।
মানিক পশারীর মৃত্যুর পর এই বিতর্কিত দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদানের চেষ্টার বিরুদ্ধে পিরোজপুরে ফুঁসে ওঠে স্থানীয় জনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি অংশ। তবে অন্য একটি পক্ষ এই বাধার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। মানিক পশারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তার দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে মশাল মিছিল ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছেন।
এদিকে মানিক পশারীর পরিবারের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তার ভাইয়ের দাবি, মানিক পশারী সাঈদীর বিরুদ্ধে কোনো মিথ্যা সাক্ষ্য দেননি। এই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি কোনো রাজনৈতিক পুরস্কার নয়, বরং তা সম্পূর্ণ আইনি ও সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হয়েছে।







