জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াত ইসলামীর জোট নিয়ে সবচেয়ে বেশি মিথ্যা, প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়েছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের; এমন মন্তব্য করেছেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন।
তিনি বলেছেন, ‘আপনি বা আপনারা এনসিপির নারী নেত্রীদের জোর করে যতটা জামায়াত বানাইতে চাইলেন, বোধ করি জামায়াতও ততটা চায় নাই। যেহেতু গত ৬ মাস জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক ছিলাম, উত্তর দেওয়ার দায় অনুভব করছি।’
আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
মনিরা শারমিন লেখেন, “প্রিয় আব্দুল কাদের, আপনি গণঅভ্যুত্থানের নেতা। আপনার প্রতি সবসময় আমার সেই সম্মানটা আছে। কিন্তু এনসিপি-জামায়াত জোট নিয়ে আপনার চেয়ে বেশি মিথ্যা, প্রোপাগান্ডা কেউ ছড়ায় নাই।”
তিনি বলেন, “এনসিপির নারী নেত্রীদের জোর করে জামায়াতপন্থী বানানো বা তকমা দেওয়া একটা স্বৈরাচারী কায়দা। আপনি বা আপনারা এনসিপির নারী নেত্রীদের জোর করে যতটা জামায়াত বানাইতে চাইলেন, বোধ করি জামায়াতও ততটা চায় নাই। যেহেতু গত ৬ মাস জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক ছিলাম, উত্তর দেওয়ার দায় অনুভব করছি। বাকিরা কে কী প্রতিবাদ করল জানি না, নিজের কথা বলি।”
তিনি আরও বলেন, “এনসিপির পক্ষ থেকে জুলাইয়ের নারীদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন, শহিদ পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেছি, তাদের সঙ্গে গিয়ে দেখা করেছি। জয়পুরহাটে নারী ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করার প্রতিবাদে আমি লিখেছি, বলেছি। গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আমি আমার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এবং বক্তব্যে কোনো ‘যদি-কিন্তু’ ছাড়া বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। চলমান নারী ও শিশু ধর্ষণের প্রতিটি ঘটনা অ্যাড্রেস করেছি এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে গিয়েছি। এমনকি মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় স্পষ্ট অবস্থান নিতে দেরি করি নাই। তাতে জামায়াতের লিডারশিপ এনসিপি বা মনিরা শারমিনকে নেতিবাচকভাবে নেয় নাই।”
শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় নারী ধর্ষণের ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় নারী ধর্ষণের ঘটনা সত্য। নেত্র নিউজের বিস্তারিত প্রতিবেদন আছে। এই ধর্ষণকে অস্বীকার করে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা বলছেন আপনি। ধর্ষণের ডিনায়াল ক্রাইমের অংশ। একটা ধর্ষণ ডিনাই করার পর আপনার নারী বিষয়ে সংবেদনশীলতা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নেত্র নিউজের প্রতিবেদনের লিংকটা কমেন্টে দিলাম, দেখে নিয়েন।”
এনসিপি নেত্রী বলেন, “কাদের সাহেব, জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচনের পরেও এনসিপি ৩০ জন থেকে দুইজন নারী নির্বাচন করেছে। আরও দুইজন সংসদে গেছে। জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পর মনিরা শারমিনকে জামায়াত হতে হয় নাই। বরং তারা এনসিপির মনিরা শারমিন হিসেবেই আমার সঙ্গে বিভিন্ন সময় বসেছে, মিটিং করেছে। এক্ষেত্রে তাদের অস্বস্তি দেখি নাই।”
মনিরা শারমিন বলেন, “ছিদ্রান্বেষণ ভালো, তবে ছিদ্রান্বেষণের ক্ষেত্রেও এনসিপির সব নেতাকে সমান চোখে দেখা উচিত। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় অন্যের ব্যর্থ সমালোচনা ছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে আপনার কোনো ইমপ্যাক্টফুল কাজ আমি অন্তত দেখি নাই। সেটা বরং করার চেষ্টা করুন। তাতে দেশ ও দশের কিছুটা লাভ হবে।”
এদিকে মনিরা শারমিনের ফেসবুক পোস্টে দেওয়া এক কমেন্টে আব্দুল কাদের লেখেন, “প্রিয় বোন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমার কোনো ইম্প্যাক্টফুল কাজ নাই, আপনার এই ধারণা সত্য। কারণ, ৫ তারিখের পর থেকেই আমি গাদ্দার হয়ে গেছি। ৫ আগস্টের পরে আপনাদের মতো দেশপ্রেমিক হয়ে ওঠার জন্য যা যা করা লাগে, আমি সেসব করি নাই।”
তিনি বলেন, “যাই হোক, আপনার দেশসেবার মহাযজ্ঞের মাঝেও আমার মতো ইম্প্যাক্টলেস একজনকে গুরুত্ব দিয়ে দুটা কথা লেখছেন, আজকে আমি সাকসেস। আপনার উত্থাপিত গোঁজামিলের উত্তর দিতে চাই না। আপনার সাথে এসব বিষয়ে আমার পার্সোনালি আলাপ হইছে, আপনি সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতার কথা বলেছেন। সে কারণে নিজে আবার আলাদা করে কী প্ল্যাটফর্মও খুলেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আমার লেখায়ও সাংগঠনিক দিকটা তুলে ধরছি। আর আপনি ব্যক্তিগতভাবে নিজ অ্যাকাউন্ট থেকে আমার কথার কাউন্টার দেওয়া প্রয়োজন ছিল না, প্রতিদিন টকশোতে গিয়ে জামায়াতকে কীভাবে ডিফেন্ড করেন, নারীদের ইস্যুতে আপনাদের পাবলিক স্ট্যান্স কী, সেটা দেখেই তো মানুষ সব বুঝে। আমি তো আপনার, আপনাদের সীমাবদ্ধতা, পিছুটান বুঝি, জানি, আমাদের এসব নিয়ে আলাপও হয়। পদ-পদবি, রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে হলে মুরুব্বিদের যে চটানো যাবে না, সেটা আপনি-আমি ভালো করেই জানি।”
আব্দুল কাদের বলেন, “আরেকটা বিষয়, আপনি সাংগঠনিকভাবে বিগত দিনে ঘটে যাওয়া নারী ইস্যুতে কয়টা কর্মসূচি দিয়েছেন, সেটা কিন্তু বলতে পারেন নাই, দেন-ই তো নাই; বলবেন কীভাবে? ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই তো বলে, লেখে। ব্যক্তিগত আলাপ তো মুখ্য না। ভালো থাকেন, নাচতে নেমে ঘোমটা দিয়ে বসে থাকা আসলেই কাজের কথা না। সবাই যা করতেছে আপনিও তা-ই করতেছেন, কিন্তু ভান করতেছেন অন্যটার। আপনারা তো উটপাখির মতো, কেবল মুখ লুকিয়ে রেখে ভাবেন, আপনাদের কেউ দেখবে না।”
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এনসিপিকে জামায়াতের মধ্যপন্থী রাজনীতিক দল বলে দাবি করেন আব্দুল কাদের। নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।







