ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পথটি পথটি কঠিন হবে ঠিকই, তবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে এমন মনে করার কারণ নেই বলে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
গতকাল রবিবার (১১ অক্টোবর) বেসরকারি এখন টিভির ‘এখন প্রকাশ’ অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন উপস্থাপক ও সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ।
রুমিন ফারহানা বলেন,“১৯৮০ সালে লোকসভায় বিজেপির মাত্র দুটি আসন ছিল। ১৯৯৬ সালে তারা ১৩ দিনের জন্য ক্ষমতায় আসে এবং ১৯৯৮ সালে পূর্ণ মেয়াদে জোটগতভাবে সরকার গঠন করে। জামায়াতের বর্তমান অবস্থান বিবেচনা করলে প্রশ্ন আসতেই পারে যে, তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে কি না এবং পারলে কত দিনে, না পারলে কেন পারবে না। জামায়াতের জন্য পথটি কঠিন হবে ঠিকই, তবে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে—এমনটি মনে করার কারণ নেই।”
তিনি বলেন,“ভারতে বিজেপির উত্থানের কথা বলা হয়, জামায়াতের ক্ষেত্রেও একই হিসাব প্রযোজ্য। দলটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং তাদের দলীয় শৃঙ্খলা চমৎকার। দূর থেকে যতটুকু জানি, তাদের দলের ভেতরে ভোটাভুটির মাধ্যমেই পদ নির্ধারিত হয় এবং কে সংসদ নির্বাচন করবেন বা করবেন না, তাও সেভাবেই ঠিক হয়। মনোনয়নের ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের কোনো অভিযোগ শোনা যায় না; বরং এলাকায় কার নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে, তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
জামায়াতের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী ভিত্তি রয়েছে উল্লেখ করে রুমিন বলেন,“রুট লেভেলের একজন কর্মী থেকে শুরু করে খোদ আমিরে জামাত পর্যন্ত প্রত্যেকে তাদের আয়ের একটি ক্ষুদ্র অংশ দলে ডোনেট করেন। এর পাশাপাশি তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থন বা ব্যাকিং তো রয়েছেই। এর ফলে দলের কোনো কর্মী জেলে গেলে, তার পরিবার দুর্দশায় পড়লে কিংবা দলীয় কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে জামায়াত শক্তভাবে তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। এসব বিষয়ই দলটিকে তৃণমূলে ধীরে ধীরে একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করছে।”
জামায়াতের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য বলেন,“একটি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছেলেকে জামায়াত বেছে নিয়ে বিদেশে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে। আমাদের পরিচিত অনেকেই এমন আছেন; কাউকে টেলিভিশনে হেনস্তা করার জন্য বলছি না, বরং আমি এই সিদ্ধান্তটিকে সম্মান জানাই। হয়তো মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও আর্থিক সংকটের কারণে ছেলেটি নিজে ব্যারিস্টার হতে পারত না, কিন্তু জামায়াত তাকে সেই সুযোগ করে দেয়। এর ফলে ওই ছেলেটির মধ্যে দলের প্রতি একটি কৃতজ্ঞতাবোধ ও সততা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সেই ছেলেটি জামায়াতের নেতাকর্মীদের মামলা বিনামূল্যে বা কম ফিতে পরিচালনা করে। এছাড়া জামায়াতের কোনো ছেলে ফিন্যান্স বা বিবিএ-এমবিএ সম্পন্ন করার পর তাদের নিজস্ব ব্যাংকে চাকরি পায়, আবার এমবিবিএস পাস করার পর তাদের হাসপাতালেই চাকরি পায়। এই ইকোসিস্টেমটি অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করে। এ কারণে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যদি নিজেদের অবস্থান সংশোধন না করে, তবে জামায়াতের এই অগ্রযাত্রায় আমি খুব একটা অবাক হব না।”
ইসলামী দলগুলোর জোট প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ভবিষ্যৎ কেবল আল্লাহর হাতে, তবুও যদি সমীকরণ মেলাতে বলেন—একদিকে থাকবে বামপন্থী শক্তি, আওয়ামী লীগ এবং অন্যান্য বাম দলগুলো মিলে একটি শক্ত অবস্থান। অন্যদিকে থাকবে জামায়াত এবং অন্যান্য ডানপন্থী দলগুলো। লক্ষ্য করবেন, হেফাজতও একটি বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যেখানে সাতটি দল একত্রিত হয়ে একটি একক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের মাটিতে উঠতে চায়। হেফাজতে ইসলামের সাথে এই কওমি মাদ্রাসার শক্তিগুলো এবং জামায়াতে ইসলামী যদি রাজনৈতিক ঐক্যে (ধর্মীয় ঐক্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক ঐক্যে) পৌঁছায়, তবে ভবিষ্যতে বিএনপি অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়বে। বিএনপির একটি বড় অংশের ভোট তখন ডানপন্থী শক্তির দিকে চলে যাবে। এভাবেই আগামী দিনের রাজনীতি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হতে চলেছে।
বিএনপির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন,“অদূর ভবিষ্যতে যদি ইসলামী ঐক্যের ভিত্তিতে জামায়াতের সাথে হেফাজতের কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা হয়—যা আজ হয়তো অসম্ভব মনে হচ্ছে (কারণ একপক্ষ অপরপক্ষকে সঠিক ইসলামপন্থী মনে করে না)—তবুও যদি এমন রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে ওঠে, তবে ভেবে দেখুন বিএনপির পায়ের নিচের ভিত্তি কোথায় থাকবে?”







