জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের পর বাংলাদেশ হবে একটি উড়ন্ত বাংলাদেশ, লাল কার্ড দেখিয়ে দেওয়ার বাংলাদেশ। তরুণরা হবে সেই উড়ন্ত বাংলাদেশের পাইলট আর আমরা হবো যাত্রী। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে জনগণকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে পিরোজপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট আয়োজিত মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, অতীতে অনেক মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। আমার দেশে ২৮ লাখ-কোটি টাকা চুরি করে পাচার করেছে স্বৈরাচার সরকার। এই টাকার মালিক জনগণ। আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে আর কাউকে লুটপাট করতে দেব না।
যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা কাজের অধিকার চেয়েছিল। আমরা যুবসমাজকে কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তাদের সঠিক শিক্ষা এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে পেশাগত দক্ষ করে তোলা হবে। এরপর তাদের হাতে যোগ্য সম্মানজনক কাজ তুলে দেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমই হবে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি।
নারীদের প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে তিনি বলেন, মায়েদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে হবে। মায়ের অপমান এ জাতি সহ্য করবে না। ঘর থেকে শুরু করে কর্মস্থল, সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা উপজাতি বলে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না, নাগরিক হিসেবে সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আপনাদের প্রিয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ জুলাই আন্দোলনের শহীদদের বিচার করার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিবেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন হবে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের নির্বাচন। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি ‘না’ মানে গোলামি।
জেলা জামায়াতের আমির তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন- কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, পিরোজপুর-১ ও ২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী যথাক্রমে শামীম সাঈদী ও মাসুদ সাঈদী এবং লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।







