ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন লক্ষ্মীপুরের সাবেক শিবির নেতা আব্দুর রহমান বিপ্লব। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সাবেক ওসি লোকমান হোসাইনের বিচার দাবি করে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন বিপ্লব। তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শাখা শিবিরের সাবেক সেক্রেটারি এবং পৌর শহরের বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসাইনের নির্দেশে পুলিশ তার বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙে ঢোকে। এ সময় আসবাবপত্র ভাঙচুরের পর চোখ বেঁধে তাকে হাতকড়া পরানো হয়। পরে থানার এলাকায় ওসির বাসভবনে নিয়ে দুই হাত বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। দিনভর ঝুলিয়ে রাখার পর রাতে মোটা লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এমনকি তাকে খাবারও দেওয়া হয়নি।
বিপ্লবের ভাষ্য, রাত প্রায় ১১টার দিকে তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন সেখানে গেলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামানো হয়। পরে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গভীর রাতে পুলিশ তাকে গাড়িতে তুলে রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধে নিয়ে যায়। সেখানে মারধর করে হত্যার ভয় দেখানো হয় এবং তার শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয়। একপর্যায়ে এক গণমাধ্যমকর্মী পুলিশ সুপারকে ফোন করে তার গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার তা অস্বীকার করেন বলে দাবি করেন বিপ্লব। পরে তাকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন ও শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপর সদর মডেল থানায় নেওয়া হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বিপ্লব বলেন, ‘আমাকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ওসি লোকমান আমার বাবার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করেন। ছেলেকে হারানোর ভয়ে বাবা দেনদরবারের পর ৭০ লাখ টাকা দিতে রাজি হন। আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় আমার বাবার কাছ থেকে চাপ প্রয়োগ করে ৭০ লাখ টাকা নেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, পরে তাকে আটটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় ২০ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। আদালত রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লব অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে রায়পুর থানার দায়িত্বে থাকাকালে ওসি লোকমান হোসাইন রায়পুর পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা এবং রায়পুর পৌর শিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট ইমরান হোসেন পরানের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করেন। তাদের মারধর করে টাকা নেওয়ার পর মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিপ্লবের অভিযোগ, তৎকালীন সরকারের সময়ে লক্ষ্মীপুরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন ওসি লোকমান। বর্তমানে তিনি পুলিশের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) উত্তরায় কর্মরত। তার বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানান বিপ্লব।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক ওসি লোকমান হোসাইনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।







