গত এক বছরে বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে থাকা প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সংস্থাটির ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট: মেক সাবসিডিজ অ্যান্ড সোশ্যাল প্রটেকশন ওয়ার্ক বেটার ফর দ্য পুওর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, গত চার বছরে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৮০ লাখ। ২০২২ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১০ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে মোট দারিদ্র্যের হার বেড়ে হয়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, নিম্ন মধ্যবিত্তদের বড় একটি অংশকে দারিদ্র্যের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে না পারলে বাংলাদেশকে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে।
বাংলাদেশে দারিদ্র্য বাড়ার পেছনে ছয়টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হলো—কোভিড-১৯ মহামারি, জ্বালানি সংকট, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর ও ভর্তুকি ব্যবস্থার দুর্বলতা।
করোনাভাইরাস মহামারির সময় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে চাকরি হারান। পরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি।
অর্থনীতিবিদ ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, করোনাকালে চাকরি হারানো অনেক মানুষ পরে আনুষ্ঠানিক খাতে আর ফিরতে পারেননি। একই সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও ব্যাংক খাতের সংকট অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।







