সীমান্তে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রতিটি সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ বন্দি আটক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে পৃথক দুই প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংরক্ষিত সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার সব সময় সীমান্তে আত্মরক্ষার অজুহাতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বিএসএফের ‘লেথাল উইপনস’ ব্যবহারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হলেও বিভিন্ন পর্যায়ে জবাবদিহিতা ও ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে বিএসএফ সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের পরিবর্তে অমরণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সীমান্তে অপ্রীতিকর ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে সরকার ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য মো. আবুল হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৭৫টি কারাগারে সর্বমোট অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ (পুরুষ ৪৩ হাজার ১০৭+ মহিলা ২ হাজার ২৯) জনের বিপরীতে বর্তমানে ৭৭ হাজার ৪০ জন (পুরুষ ৭৪ হাজার ৩৬+ মহিলা ২ হাজার ৭৭) জন বন্দি আটক আছে, যা ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ।
তিনি বলেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি আটক থাকায় কিছু কিছু কারাগারে বন্দিদের আবাসন সমস্যা বিরাজ করছে। বন্দি আবাসন সমস্যা সমাধানের জন্য ইতিমধ্যে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২, ফেনী জেলা কারাগার-২ এবং খুলনা জেলা কারাগার-২ চালু করা হয়েছে এবং কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২, মাদারীপুর জেলা কারাগার-২, পিরোজপুর জেলা কারাগার-২ শিগগিরই চালু করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণ এবং নরসিংদীতে নতুন কারাগার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এ চারটি কারাগারের নির্মাণ/পুনর্নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বন্দি ধারণক্ষমতা আরো ২ হাজার ৯৫৫ জন বৃদ্ধি পেয়ে সর্বমোট ৪৮ হাজার ১৩১ জনে উন্নীত হবে। এ ছাড়া রাজশাহী, রংপুর, নোয়াখালী, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি কারাগার পুনর্নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে; যা বাস্তবায়িত হলে ধারণক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পাবে।







