ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন—চরলাপাং গ্রামের ফুল মিয়া (৬০) ও একই গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী উম্মে হানি (২২)। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরলাপাং গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণের সময় গ্রামের অহিদ মিয়া বাধা দেন। এ নিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। সড়কটি নির্মাণের পর গ্রামের মুসলেম মিয়া কৃষকদের জমিতে ভাড়ায় চাষ দেয়ার জন্য একটি ট্রাক্টর কিনে আনেন। এতে বিরোধ আরও তীব্র হয়। ট্রাক্টর ভাড়া দেয়ার ব্যবসায় একক আধিপত্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় মুসলেম মিয়ার ওপর অহিদ মিয়া ও তার ভাই উবায়দুল মিয়া ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, এর জের ধরে গতকাল শনিবার রাতে অহিদ মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মির্জারচর গ্রাম থেকে ভাড়ায় লোকজন আনেন। অহিদ মিয়ার নেতৃত্বে ওই লোকজন মুসলেম মিয়ার লোকজনের ওপর হামলা চালান। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় গুলি চালানো হলে মুসলেম মিয়ার পক্ষের ফুল মিয়া ও উম্মে হানি গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হন।
নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রোকসানা খাতুন বলেন, ডান হাতে গুলিবিদ্ধ দুজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় অহিদ মিয়া ও মুসলেম মিয়ার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।







