মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকার চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে ৮ নম্বর রোডে ভবনসহ ১১ কাঠা জমি দখলের চেষ্টা করেছে কিছু দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি।
অভিযোগে তিনি বলেন, ‘চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের ৮ নম্বর রোডে ভবনসহ ১১ কাঠা জমি তার মায়ের মালিকানাধীন। কিছুদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী।’
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, গতকাল সকাল ১০টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ লোকের একটি দল জমির সামনে এসে ভাঙচুর শুরু করে। স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদেরও মারধর করা হয়। ওই প্লটে থাকা একটি অফিস কক্ষের তালা ভেঙে এসি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিল, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাব লুট করা হয়। পরে টিন ও বাঁশ দিয়ে প্লটটির চারপাশ ঘিরে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পেছনে খোকন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির জড়িত, অভিযোগ করলেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।
জানা গেল, চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন তিনি। তার বাড়ি ভোলায়। তার নেতৃত্বে ভাঙচুর হয় আর সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাকর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী বললেন, ‘আমাদের বাড়ি এই জমির পাশেই। আমরা দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখছিলাম। এ সময় আমাদেরও মারধর করা হয়েছে। বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে জহির নামে একজন ফোনে কথা বলছিলেন। তাকেও ঘরে ঢুকে মারধর করা হয়েছে।’
স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম ও যুগ্ম সম্পাদক নান্নু। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি কর্মী নুর নবী দেওয়ান, জামাল হোসেনসহ অন্যরা। তাদের নির্দেশেই লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়।
হামলার কারণ জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আমি কিছুই জানি না। আমি মূলত ওই জমিতে থাকা স্থাপনা আলম হোসেনের ম্যানেজার সাদেকের কাছ থেকে কিনেছি। চার মাস ধরে আমি স্থাপনা ভেঙে নিচ্ছি। আমি জমির বিষয় কিছুই জানি না।’
‘স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নামধারী কিছু লোক এই হামলা ও লুটপাট করেছে। তাদের মদদ দিয়েছে তৃতীয় একটি পক্ষ, যারা এখন জমির মালিক দাবি করছে। আমার কেনা মালপত্রও লুট হয়েছে’— দাবি করলেন তিনি।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি আবদুল হালিম বললেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এই জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমরা বলেছি আদালতে যেতে। আদালত যার পক্ষের রায় দেবেন তিনিই জমির কাছে যেতে পারবেন।







