ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়মিতভাবে চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন ডাকসুর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা। তিনি বলেছেন, ‘যেই নির্বাচিত হোক, ডাকসু নিয়মিত হোক—এটাই আমার প্রাণের দাবি।’
রোববার নিজের ফেসবুক পোস্টে উম্মে সালমা বলেন, ডাকসু ২০২৫-এর অফিসিয়াল মেয়াদ শেষ হয়েছে। ডাকসু ২০২৬ নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
নিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, কয়েকটি কাজ প্রায় শেষের পথে, কিছু কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং কয়েকটি কাজের নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কার্জন হলের ক্যান্টিন এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায়। মোতাহার হোসেন ভবনের ক্যান্টিন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একই ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টার মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। এ ছাড়া কার্জন হলের ডে-কেয়ার সেন্টারের টেন্ডার প্রক্রিয়াও চলছে।
উম্মে সালমা আরও বলেন, লাইব্রেরিতে এসি ও চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের কাজ চলমান। মোকাররম ভবনের ক্যান্টিনের বাজেট হাতে পেলেই কাজ শুরু হবে। এ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, তাঁর দায়িত্বে থাকা প্রতিটি কাজই শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অনেক সমস্যার সমাধান হবে এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন।
ডাকসু নিয়মিত না থাকায় বিভিন্ন সমস্যা দীর্ঘায়িত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উম্মে সালমা বলেন, ২০১৯ সালের পর ডাকসু হলেও তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত সেক্টরগুলোতে ন্যূনতম কাজও হয়নি। ফলে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধান করা কঠিন ছিল। পাশাপাশি ক্যাম্পাসজুড়ে থাকা ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া, রিডিংরুম, লাইব্রেরি ও কমনরুমের পরিচালনাব্যবস্থা বুঝতে তাঁর তিন মাসের বেশি সময় লেগেছে।
তারপরও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, হাতে থাকা কাজগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
পোস্টের শেষাংশে ডাকসু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের স্মরণ করে উম্মে সালমা বলেন, ২০২৫ সালের ডাকসু বাস্তবায়নের পেছনে মো. বিন ইয়ামিন মোল্লার অনশন ও সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর ত্যাগের জন্য শ্রদ্ধা জানিয়ে উম্মে সালমা বলেন, ‘ধন্যবাদ ইয়ামিন ভাই এবং ২০২৫ সালের ডাকসু আদায় করে নেওয়া সকল সংগ্রামী কমরেডকে।’







