জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। অনুষ্ঠানে নবীনদের হাতে আল-কোরআন, ব্যাগ, চাবির রিং, কলম ও ইসলামিক বই তুলে দেওয়া হয়।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বছর প্রায় ৪ হাজার ১০০ নবীন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নিবন্ধন করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, অতীতে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে তাঁদের কয়েকজন কর্মী নিহত হয়েছেন। ছাত্রশিবিরকে আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে আদর্শ দিয়েই করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্যাম্পাসের অতীত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারতেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট বা মন্তব্যের কারণে শিক্ষার্থীদের ধরে নিয়ে নির্যাতন এবং তাঁদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও সহ-উপাচার্য উপস্থিত না থাকায় তাঁরা হতাশ। তাঁর দাবি, ছাত্রশিবিরের শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনেক সময় উপস্থিত থাকেন না।
নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, অতীতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্রশিবির নবীনবরণ আয়োজন করত। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। নবীনবরণ করতে গিয়ে ছাত্রশিবিরের কর্মীদের নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভালো ও খারাপ—দুই ধরনের পথে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আদর্শ, যোগ্য ও চরিত্রবান মানুষ তৈরিতে ছাত্রশিবির কাজ করছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় আদর্শ মানুষ তৈরির জন্য নির্দিষ্ট কারিকুলাম বা প্রশিক্ষণের ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১৬ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘গেস্টরুম কালচার’, ‘টর্চার সেল কালচার’, হল দখলসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের সংস্কৃতি ছিল দাবি করে তিনি বলেন, এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ ছিলেন।
নবীন শিক্ষার্থী মারজিয়া সুলতানা মিথি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশের অনুভূতি তাঁর কাছে নতুন ও আনন্দের। ছাত্রশিবির সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবে—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নূরুল ইসলাম বুলবুল। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমাজ উদ্দীন মন্ডল, আজিজুর রহমান আজাদ, মাহমুদুল হাসান, ইমরান নাজির, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল।







