দীর্ঘ ৬০ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে তাদের সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল। সেমিফাইনালে নাটকীয় পরাজয়ের পর চোখের জলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল হ্যারি কেইনরা।
ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইন বলেন, প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ ঠেকাতে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা মরিয়া হয়ে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি। মূলত গর্ডনের গোলের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড।
গর্ডনের গোলের পর কী ঘটেছিল এমন প্রশ্নের জবাবে কেইন বলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আমরা ভালোভাবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করেছিলাম। তাদের ওপর প্রচুর চাপ তৈরি করেছিলাম, যা আমাদের ম্যাচে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘গোল হওয়ার পর তারা হয়তো সামনে আরও বেশি খেলোয়াড় নিয়ে এসেছিল, অথবা আমরা হেড টু হেড তাদের সঙ্গে তাল মেলাতে পারিনি। এরপর একের পর এক আক্রমণ আসতে থাকে। ছেলেরা একের পর এক ব্লক করছিল, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না।’
কেইন বলেন, গর্ডনের গোলের পরই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগকে বারবার ব্যস্ত থাকতে হয়। খেলোয়াড়রা নিজেদের শরীর দিয়ে শট ঠেকানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষের চাপ সামলাতে পারেনি ইংল্যান্ড।
বুধবার রাতে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এক গোলের লিড ধরে রেখে ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল থ্রি লায়ন্সরা। তবে ম্যাচের শেষদিকে বদলে যায় পুরো চিত্র। খেলার ৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির প্রথম অ্যাসিস্টে বল পেয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-১ সমতায় ফেরান চেলসি তারকা এনজো ফের্নান্দেস। এরপর ম্যাচ যখন নিশ্চিতভাবে অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে লিওনেল মেসির জাদুকরী পাস (দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট) থেকে বল পেয়ে ইংল্যান্ডের জাল কাঁপিয়ে দেন বদলি নামা স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেস। তার গোলেই ফাইনালের টিকিট কাটে আলবিসেলেস্তারা। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।







