বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন (২৬) নিখোঁজের পাঁচ দিন পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
জানা গেছে, গত ৮ জুলাই সন্ধ্যার পর বিমানবন্দরের আবাসিক এলাকার কোয়ার্টার থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন আরিফুল্লাহ জেলিন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তিনি কর্মস্থলেও আর যোগ দেননি।
এ ঘটনায় ৯ জুলাই তার সহকর্মী ধনঞ্জয় কুণ্ডু সিলেট বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অর্জুন চৌধুরী।
পুলিশ জানিয়েছে, ছুটি শেষে বাড়ি থেকে ফিরে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর অফিসে আসেননি। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে তার সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা গেছে। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে।
আরিফুল্লাহ জেলিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলায়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি বাড়িতেও ফেরেননি। তার সন্ধান পেলে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বজনরা।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ কালবেলাকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি নিখোঁজ হয়েছেন, নাকি অন্য কোনো কারণে কোথাও চলে গেছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানের সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা ৮ জুলাই সন্ধ্যার পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার মা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছে। তিনি অবিবাহিত। প্রেমঘটিত কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। গত ২৭ এপ্রিল থেকে তিনি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘জিডির ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। তার মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। গত ৮ জুলাই থেকে মোবাইল ফোনটি বন্ধ রয়েছে এবং সর্বশেষ লোকেশন বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে পাওয়া গেছে। স্বেচ্ছায় নিখোঁজ হওয়া, অপহরণ কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।’
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সারা দেশে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি নতুন পাওয়া বিভিন্ন তথ্য ও সূত্র যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত কর্মকর্তারা পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।
ডিসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো তদন্ত দল বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য দ্রুত আরিফুল্লাহ জেলিনকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।’







