দিনটিকে শুধু অম্লমধুর বললে যেন তার পুরো গল্পটা বলা হয় না। কারণ পেনাল্টি মিসের হতাশাকে পেছনে ফেলে কিলিয়ান এমবাপ্পে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন, যেভাবে নিজের সামর্থ্যের ঝলকে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে তুলেছেন, তা আসলে কেবল তার পক্ষেই সম্ভব। বড় খেলোয়াড়েরা ব্যর্থতাকে যেভাবে জ্বালানি বানান, এমবাপ্পে যেন সেদিন তারই আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছিলেন।
ম্যাচের ২৬ মিনিটে পেনাল্টি মিস। ৬০ মিনিটে নিজের গোল। ৬৬ মিনিটে সতীর্থ দেম্বেলেকে পাস দিয়ে গোলে অ্যাসিস্ট। মরক্কোর বিপক্ষে এমবাপ্পে ছিলেন অসাধারণ। অধিনায়ক হয়ে পারফর্ম করতে হয়। তার সেরা উদহারণ তিনি। সেটা দিয়েই দলকে তুলেছেন সেমিফাইনালে। তার নেতৃত্বে ফ্রান্স অপ্রতিরোধ্য। ছুটছেন দারুণভাবে। প্রতিপক্ষকে নিজেদের সামনে দাঁড়াচ্ছে দিচ্ছে না।
যেমন পাওয়ার ফুটবল। যেমন সৃজনশীলতা। প্রতাপশালী পারফরম্যান্সের সঙ্গে চোখ ধাঁধানো কারিশমা। ফ্রান্স যেন অনন্য, অসাধারণ। কে থামাবে তাদের সেটা বিরাট প্রশ্নই হয়ে থাকল। কিন্তু এই ফ্রান্সের রহস্য কী? বোস্টনে ম্যাচ শেষে দলের মহাতারকা এমবাপ্পের কাছেই জানতে চাওয়া হয়েছিল। উত্তরে এমবাপ্পে যা বলেছেন তা কেবল একজন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের পক্ষেই বলা সম্ভব।
তার ভাষ্য, ‘এই ফ্রান্স দলের রহস্য কী? স্বস্তিতে থাকার একটাই উপায় আছে, আর সেটা হলো জয়ী (চ্যাম্পিয়ন) হওয়া। যতক্ষণ না আমরা সেটা করতে পারছি, ততক্ষণ আমরা শান্ত হচ্ছি না। আমরা সেমিফাইনালে আছি এবং আমরা খুবই খুশি, কিন্তু এখনও অনেক পথ বাকি। আমরা বুঝতে পারছি যে সামনে যা আছে, তা আমরা যা পার করে এসেছি তার চেয়েও কঠিন। তবে আমরা যেকোনো কিছুর মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।’
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের সামনে পড়বে স্পেন কিংবা বেলজিয়াম। সেই বাধা টপকাতে পারলে ফাইনালে চলে যাবে তারা। টানা তিন আসরে ফাইনাল খেলার অনন্য কীর্তিও করবে তারা। যা আগে কোনো দল পারেনি। ২০১৮ সালে রাশিয়াতে তারা বিজয়ের মুকুট পড়েছিল। ২০২২ সালে কাতারে পারেনি। এবার শিরোপা পুনরুদ্ধারে তারা বদ্ধপরিকর। যে করেই হোক শিরোপা চাই-ই চাই। সামনে যত বাধাই আসুক জয় করতেই হবে।







