বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘স্টুডেন্ট লোন’ বা ঋণ সুবিধা দিচ্ছে রূপালী ব্যাংক পিএলসি। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও ভিসা প্রক্রিয়ায় দূতাবাসের শর্ত অনুযায়ী আর্থিক সচ্ছলতা বা ‘ব্যাংক সলভেন্সি’ প্রদর্শনের সুবিধার্থে ব্যাংকটি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের অবগত করতে জাবিপ্রবির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে রূপালী ব্যাংকের এই সংশোধিত ঋণ নীতিমালার একটি নোটিশ শেয়ার করা হয়।
রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাধারণ ঋণ ও এসএমই বিভাগ কর্তৃক গত ২৮ এপ্রিল জারি করা এই নীতিমালার ফলে জাবিপ্রবিসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন এই নীতিমালার আওতায় একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন, যা অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে অনধিক তিনটি কিস্তিতে বিতরণযোগ্য। ১২ শতাংশ পরিবর্তনশীল সুদের হারে এই ঋণের মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ১২ মাস। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার সলভেন্সি বা তারল্য দেখাতে না পারায় অনেক শিক্ষার্থীর বিদেশে যাওয়া আটকে যায়। শিক্ষার্থীদের এই সংকট নিরসনেই মূলত প্রচলিত ঋণ কর্মসূচিটি হালনাগাদ করেছে ব্যাংকটি। এই ঋণ পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং শিক্ষার্থী নিজে অথবা তাঁর পিতামাতা বা আইনগত অভিভাবক (স্পন্সর) এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ ও দাপ্তরিক কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত অফার লেটার, টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচের বিবরণী (যেমন: আই-২০), শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদের সত্যায়িত কপি, বৈধ পাসপোর্ট এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইইএলটিএস, টোফেল বা জিআরই-এর মতো পরীক্ষার স্কোরশিট।
এছাড়া ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সঞ্চয়ী হিসাবে ১০ শতাংশ ক্যাশ মার্জিন জমা রেখে তা দিয়ে একটি এফডিআর খুলতে হবে। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য অন্তত একজন নিকটাত্মীয়ের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি প্রদান এবং প্রসেসিং ফি বাবদ এককালীন ৫০০ টাকা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নীতিমালায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদেশে পড়াশোনার উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো খাতে এই ঋণের অর্থ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।







