বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে তিনটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলের নামে নতুন দুই ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন দুটি হলো সীমান্ত ইউনিয়ন ও দিগন্ত ইউনিয়ন। প্রতিমন্ত্রীর বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত। এ ছাড়া মোকামতলা উপজেলায় স্বর্ণগ্রাম একটি ইউনিয়ন সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রতিমন্ত্রীর মীরবাড়ীর নামে আরও একটি ইউনিয়ন সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোকামতলা পৌরসভা গঠনের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পৌরসভার অনুমোদন কার্যকর হলে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে পরিচালিত হবে। রোববার সন্ধ্যায় বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত গেজেট বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গেজেট অনুযায়ী, ময়দানহাট্টা ইউনিয়ন ভেঙে স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। ১৭টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯৩৪ জন। একইভাবে সৈয়দপুর ইউনিয়ন বিভক্ত করে সীমান্ত ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। ১১টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৬ হাজার ২৬৭ জন। এ ছাড়া দেউলী ইউনিয়ন থেকে পৃথক করে দিগন্ত ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। ৮টি মৌজা নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ১৭ হাজার ৭৫৯ জন।
নতুন তিনটি ইউনিয়ন গঠনের পাশাপাশি অবশিষ্ট মৌজাগুলো নিয়ে ময়দানহাট্টা, দেউলী, সৈয়দপুর, মোকামতলা ও শিবগঞ্জ ইউনিয়ন পুনর্গঠন করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত ময়দানহাট্টা ইউনিয়নে ১২টি মৌজায় লোকসংখ্যা ১৪ হাজার ৭৬৭ জন, দেউলী ইউনিয়নের ৮টি মৌজায় লোকসংখ্যা ১৪ হাজার ৩৬০, সৈয়দপুর ইউনিয়নে ১৪টি মৌজায় লোকসংখ্যা ১৭ হাজার ৪৭৪, মোকামতলা ইউনিয়নে ১২টি মৌজায় লোকসংখ্যা ১৬ হাজার ৪ এবং শিবগঞ্জ ইউনিয়নে ১৩টি মৌজায় লোকসংখ্যা ২৬ হাজার ৩০৪ জন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলায় ‘মীরবাড়ী’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার আরও পাঁচটি ইউনিয়ন পুনর্গঠন করে সরকার গেজেট প্রকাশ করেছে।
জানা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের অংশ নিয়ে মীরবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। মীরবাড়ী হচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের বেতগাড়ি গ্রামে অবস্থিত পৈতৃক বাড়ির নাম। সেই নামেই নতুন ইউনিয়নটির নামকরণ করা হয়েছে।
গেজেট অনুযায়ী, উপজেলার ফেনীগ্রাম, সৈয়দপুর, চন্দনপুর, দোপাড়া, তেয়াইল, গোরনা, ধামাহার, বাদলদিঘী, বেতগাড়ি, রামকান্দি, চকগোপাল, ডাবুর, চককানু, হরিপুর, গোপীনাথপুরসহ ১৫টি মৌজা নিয়ে মীরবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়েছে। নতুন এই ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ১৮ হাজার ৯২৪ জন।
একই সঙ্গে শিবগঞ্জ পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ এবং নতুন ইউনিয়ন গঠনের কারণে বিহার, রায়নগর, বুড়িগঞ্জ, কিচক ও আটমুল ইউনিয়নও পুনর্গঠন করা হয়েছে।
পুনর্গঠিত ইউনিয়নগুলোর মধ্যে বিহার ইউনিয়ন পরিষদ সংসারদিঘী, দোবিলা, সোলাগাড়ী, নারায়ণশহর, ধামাহার, ভাসুবিহার, পারলক্ষ্মীপুর, পনরটিকা, বিহার, আলীগ্রামসহ মোট ১০টি মৌজা নিয়ে পুনর্গঠিত হয়েছে। এ ইউনিয়নের জনসংখ্যা ২১ হাজার ২১ জন।
গেজেট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করতে নতুন ইউনিয়ন গঠন এবং বিদ্যমান ইউনিয়নগুলোর পুনর্গঠন করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, সরকারি গেজেট অনুযায়ী নতুন ইউনিয়ন গঠন ও ইউনিয়নগুলোর পুনর্গঠনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় জনগণ সহজে সরকারি সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
সংসদে ইউনিয়নের নামের ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী:
দুই ছেলের নামে নতুন দুটি ইউনিয়নের নামকরণের সমালোচনা নিয়ে গতকাল সংসদে ২৭৪ বিধিতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি দাবি করেছেন, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির ভিত্তিতেই নাম নির্ধারণ করা হয়েছে, সন্তানদের নামে নয়।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, নবগঠিত মোকামতলা ইউনিয়নে সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদ আয়তনে অনেক বড়। এই ইউনিয়ন ভেঙে সীমান্ত নামে ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। কারণ গাবতলী এবং সোনাতলা উপজেলার ইউনিয়নটি সীমান্তবর্তী। আরেকটি ইউনিয়নের নাম ছিল দেউলী। তা গাইবান্ধা জেলার সীমান্তবর্তী। দূরবর্তী হওয়ায় নাম দেওয়া হয়েছে দিগন্ত। যদিও দেউলী ইউনিয়নের নাম পরিবর্ত নয়, ইউনিয়নটি ভেঙে দিগন্ত নামে ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে।
তবে সংসদে সমালোচনার প্রেক্ষিতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অলৌকিকভাবে আমার সন্তানদের নামের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের নাম মিলে গেছে ঠিকই, কিন্তু আমাদের সন্তানের নাম হচ্ছে মীর সীমান্ত, মীর দিগন্ত। আমার যদি ইচ্ছা থাকত, তাহলে জেলা প্রশাসককে বলতাম ‘নাম রাখেন মীর সীমান্ত, না হলে মীর দিগন্ত’। কিন্তু নামের আগে তো মীর নেই।’







