যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হতে পারে বলে জোর গুঞ্জনের মধ্যেই একথা জানিয়েছে দেশটি। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাব নিয়ে তারা এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব ‘এখনও বিবেচনায় রয়েছে’ বলে জানিয়েছে ইরান। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা কাছাকাছি পৌঁছে গেছে— এমন খবরের মধ্যেই তেহরানের এই প্রতিক্রিয়া এলো। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস বুধবার জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস মনে করছে ইরানের সঙ্গে ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে তারা।
তবে ইরানের পার্লামেন্টের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য এই প্রস্তাবকে ‘চাওয়া-পাওয়ার তালিকা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে নিজেদের মতামত পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে জানাবে তেহরান।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, চলমান যুদ্ধবিরতিকে ‘স্থায়ীভাবে যুদ্ধের সমাপ্তিতে’ রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে এবং একটি চুক্তি সম্ভব।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারকটি এক পাতার ১৪ দফার নথি, যা ভবিষ্যতের বিস্তারিত পারমাণবিক আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার মতো বিষয়ও প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদনটি দুই মার্কিন কর্মকর্তা ও আরও দুইটি সূত্রের বরাত দিয়েছে, তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তারা জানিয়েছেন, স্মারকে থাকা অনেক শর্তই চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভরশীল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতা নিয়ে অবগত দুইটি সূত্র অ্যাক্সিওসের তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সিকে (ইসনা) বলেন, ‘মার্কিন প্রস্তাব এখনও পর্যালোচনা করছে ইরান। পর্যালোচনা শেষে পাকিস্তানকে আমাদের মতামত জানানো হবে।’
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই এক্সে লিখেছেন, ‘যে যুদ্ধে আমেরিকা হেরে যাচ্ছে, সেই যুদ্ধে তারা মুখোমুখি আলোচনায় যা পায়নি, তার চেয়ে বেশি কিছু পাবে না’।
তিনি আরও বলেন, ইরান ‘ট্রিগারে আঙুল রেখেছে এবং প্রস্তুত রয়েছে’। যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘আত্মসমর্পণ না করে এবং প্রয়োজনীয় ছাড় না দেয়’, তাহলে ইরান ‘কঠোর ও অনুতাপসৃষ্টিকারী জবাব’ দেবে।
অন্যদিকে ট্রাম্পও নতুন হামলার হুমকি দিয়েছেন। নিজের ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ইরান যদি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে ‘বোমা হামলা শুরু হবে এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ও তীব্রতায় হবে’। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রাথমিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হবে ‘যদি ইরান বিষয়গুলো মেনে নেয়’।
ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যদিও তেহরান এ দাবি নিশ্চিত করেন। দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিরোধের একটি বিষয় হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) চুক্তি করতে চায়। গত ২৪ ঘণ্টায় আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং খুব সম্ভবত আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব’। তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি আমরা জিতেছি।’







