যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান প্রস্তাবিত চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে দেশটির ওপর আরও বড় ও তীব্র হামলা চালানো হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় সম্মত হলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হতে পারে।
বুধবার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান আলোচনার শর্ত মেনে নিলে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ‘সব দেশের জন্য, এমনকি ইরানের জন্যও’ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’ও শেষ হবে।
গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলার জবাবে তেহরান এই পদক্ষেপ নেয়। এর পাল্টা হিসেবে ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দর থেকে চলাচলকারী জাহাজের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ট্রাম্প গত ৩ মে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি নৌ অভিযান ঘোষণা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করা। তবে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির কারণে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সেই অভিযান স্থগিত করা হয়।
পরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা দাবি করে, ‘আগ্রাসী শক্তির হুমকি’ দূর হওয়ার পরই প্রণালিতে নিরাপদ চলাচল সম্ভব হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সম্ভাব্য ওই চুক্তির আওতায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল, জব্দ অর্থ ছাড় ও হরমুজ প্রণালিতে উভয়পক্ষের আরোপিত নৌ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো তেহরানের বিবেচনায় রয়েছে। পর্যালোচনা শেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানানো হবে।







