সিরিয়ার অভ্যন্তর থেকে প্রায় ২৫০টি ছাগল অবৈধভাবে সরিয়ে ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন খামারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইডিএফ কর্তৃপক্ষ।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২–এর বরাতে জানা গেছে, গোলান মালভূমিতে দায়িত্বে থাকা গোলান ব্রিগেডের একটি ব্যাটালিয়ন প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সিরিয়ার ভেতরে পরিচালিত এক অভিযানের সময় এই ঘটনা ঘটায়। অভিযানের সময় তারা সিরীয় কৃষকদের মালিকানাধীন একটি ছাগলের পাল শনাক্ত করে তা ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নিয়ে আসে। পরে ট্রাকযোগে ছাগলগুলো পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে অবস্থিত খামারগুলোতে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানায়, এই পদক্ষেপ কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল। তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট স্কোয়াড কমান্ডারকে পদচ্যুত করা হয়েছে, কোম্পানি কমান্ডারকে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করা হয়েছে এবং পুরো স্কোয়াডকে দীর্ঘ সময়ের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা প্রথম নজরে আসে যখন গোলান মালভূমির স্থানীয় কৃষকরা রাস্তায় ডজন ডজন ছাগল ঘুরে বেড়াতে দেখে সেনাবাহিনীকে অবহিত করেন। পরবর্তী তদন্তে জানা যায়, পাচার করা ছাগলের মধ্যে প্রায় ২০০টি বর্তমানে ইসরাইলের অভ্যন্তরে রয়েছে, যেগুলোর কোনো শনাক্তকরণ চিহ্ন বা রোগ প্রতিরোধমূলক টিকা নেই। বাকি ছাগলগুলো সিরিয়া সীমান্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ার বাফার জোনের ভেতরে অন্তত নয়টি সামরিক অবস্থান ধরে রেখেছে। ইসরাইলের দাবি, শত্রুপক্ষের হাতে অস্ত্র পৌঁছানো ঠেকাতে তারা সিরিয়ার ভেতরে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করছে।
তবে সামরিক অভিযানের আড়ালে এ ধরনের শৃঙ্খলাবিরোধী ও লজিস্টিক অনিয়ম আইডিএফ-এর অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরাইল







