নিজ ভূখণ্ডে ‘বারবার ইরানি হামলার’ অভিযোগে ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের চার কর্মীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সৌদি আরব।
স্থানীয় সময় শনিবার (২২ মার্চ) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবে নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসের সামরিক অ্যাটাশে, সহকারী সামরিক অ্যাটাশে এবং মিশনের আরও তিন কর্মীকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করেছে। খবর রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। এই যুদ্ধে তেহরান সৌদি আরব এবং তাদের প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যেখানে মার্কিন সামরিক সমরাস্ত্র ও ঘাঁটি রয়েছে। বেসামরিক কেন্দ্র এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে এসব ক্রমবর্ধমান শক্তিশালী হামলার ফলে পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত অপরিশোধিত খনিজ তেলের মজুত থাকা সৌদি আরব জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা শত শত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে, যার বেশিরভাগই প্রতিহত করা হয়েছে।
হামলাগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানী রিয়াদে চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানে।
গত বৃহস্পতিবার লোহিত সাগর তীরের ইয়ানবু বন্দরে তেল লোডিং ব্যাহত হয়, যখন নিকটবর্তী আরামকো-এক্সন শোধনাগার-এর ওপর একটি ড্রোন আছড়ে পড়ে। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার পর, ইয়ানবু বন্দরটিই এখন সৌদি আরবের একমাত্র রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
শনিবারের এই বিবৃতিটি এমন সময় এল যখন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন, ইরানের ওপর থেকে আস্থা ‘চুরমার’ হয়ে গেছে এবং নিজের দেশ রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা ও শক্তি রয়েছে, যা তারা প্রয়োজন মনে করলে প্রয়োগ করতে পারে।
ঐতিহাসিকভাবেই ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক অম্লমধুর, তবে তিন বছর আগে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছিল।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যাবে এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।
এর আগে গত বুধবার কাতারও দোহায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা অ্যাটাশে এবং তাদের কর্মীদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।







