গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গত দুই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে অন্তত ৯৮ ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। সোমবার এমন তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস–ইসরায়েল (পিএইচআরআই)। খবর আনাদোলুর।
সংগঠনটি জানায়, তাদের প্রতিবেদনটি ইসরায়েলের সরকারি প্রতিক্রিয়া, চিকিৎসা নথি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, চিকিৎসাকর্মীদের সাক্ষ্য এবং মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি ও অন্যান্য মানবাধিকার সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।
সংগঠনটির দাবি, ইসরায়েল কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ গোপন করছে এবং ভুক্তভোগীর প্রকৃত সংখ্যা এখনও লুকিয়ে রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, আসল সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে।
পিএইচআরআই অভিযোগ করে যে, ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল সাংগঠনিক হত্যার নীতি, নির্যাতন এবং চিকিৎসা অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যুর ঘটনা ঘটাচ্ছে।
সংগঠনের বন্দি ও আটক বিষয়ক বিভাগের প্রকল্প সমন্বয়কারী ওনেগ বেন দ্রর বলেন, এই মৃত্যুর সংখ্যা, নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলার ব্যাপক প্রমাণ।
এগুলো প্রমাণ করে যে, ইসরায়েল বন্দিদের হত্যার একটি পরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবর ২০২৩ থেকে আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে ৯৪টি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়াও শুধু চলতি বছরের অক্টোবর ও নভেম্বরে আরও চারজন বন্দির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
এই তালিকায় শুধুমাত্র কারাগার ও আটক কেন্দ্রের ভেতরে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর ঘটনাগুলোই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রেপ্তারের পরপরই গুলি করে হত্যা করা সাতটি আলাদা ঘটনার তথ্য এতে যুক্ত করা হয়নি।
সংগঠনটি আরো জানায়, মৃতদের মধ্যে ৫২ জনই গাজা থেকে আটক হওয়া ফিলিস্তিনি।
এ বিষয়ে ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস বা সেনাবাহিনী কেউই কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় ভয়াবহ হামলা চালায়, যাতে ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছে ১ লক্ষ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ, এবং ইসরায়েল হাজারো ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে।







