রঞ্জি ট্রফিতে টানা দুই ম্যাচে হায়দরাবাদকে নেতৃত্ব দিয়েও দলকে নকআউটে তুলতে পারেননি মোহাম্মদ সিরাজ। তাই ধরে নিয়েছিলেন, আপাতত ক্রিকেট থেকে বিরতি। পরিকল্পনা ছিল আগামী সপ্তাহে মাদ্রিদে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও রিয়াল সোসিয়েদাদের ম্যাচ দেখা। এরপর আইপিএলের আগে রমজান মাসটা পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন। কিন্তু সব পরিকল্পনায় হঠাৎ ছেদ টানে একটি ফোন কল।
ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের পাঠানো বার্তায় লেখা ছিল, ‘ব্যাগ গুছিয়ে চলে আয়।’ প্রথমে ভেবেছিলেন, নিশ্চয়ই মজা করছেন সূর্য। তাই পাল্টা জানিয়ে দেন, এভাবে যেন বিরক্ত করা না হয়। কিন্তু সূর্যকুমার স্পষ্ট করে জানান, তিনি মোটেও রসিকতা করছেন না- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে যোগ দিতে হবে।
আর তখনই বদলে যায় দৃশ্যপট। দেরি না করে দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে সিরাজ রাত তিনটার দিকে মুম্বাইয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেন। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে সামান্য প্রস্তুতি নিয়ে কিছুক্ষণ ঘুমান। ঘুম ভাঙতেই আসে আরেকটি চমক, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি সরাসরি খেলবেন একাদশে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর আর কোনো টি-টোয়েন্টি খেলেননি সিরাজ। তবে শনিবার মাঠে নেমে বুঝিয়ে দেন, এই ফরম্যাট থেকে তিনি কখনোই দূরে ছিলেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে ১৬১ রান ডিফেন্ড করতে নেমে নতুন বল হাতে দুর্দান্ত শুরু এনে দেন সিরাজ। প্রথম স্পেলেই দুটি দ্রুত উইকেট নেন তিনি। আরশদীপ সিংকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৩ রানে ৩ উইকেটে নামিয়ে আনেন। এখানেই মূলত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ভারত। শেষ পর্যন্ত ২৯ রানের জয় পায় স্বাগতিক দল।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের দলে ফেরার গল্প বলতে গিয়ে সিরাজ বলেন, “দু’দিন আগে সূর্য ভাই আমাকে ফোন করে বলেছিলেন, ‘মিয়াঁ, ব্যাগ গুছাও আর মুম্বাই চলে আসো।’ আমি বলেছিলাম, ‘ভাই, মজা কোরো না, এটা তো হওয়ার কথা নয়।’ কিন্তু তিনি বললেন, ‘আমি সত্যি বলছি, প্রস্তুত হয়ে যাও।’”
সূর্যর ফোনের কিছুক্ষণ পরই ভারতের নির্বাচক কমিটির সদস্য প্রজ্ঞ্যান ওঝাও একই খবর দেন। তখনই নিশ্চিত হন সিরাজ। যদিও ততক্ষণে তার মাদ্রিদ যাওয়ার বিমানের টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছিল। পোস্ট-ম্যাচ উপস্থাপনায় উচ্ছ্বসিত সিরাজ বলেন, ‘তারপর ওঝা ভাই ফোন করলেন। যা আল্লাহ লিখে রেখেছেন, তা কেউ বদলাতে পারে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘১৫ তারিখে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ ছিল, সেটা দেখতে যাওয়ার কথা ছিল। তারপর রমজান… কিন্তু আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন, সেটাই হলো।’
সিরাজের দলে ঢোকাটাও ছিল একেবারেই শেষ মুহূর্তের ঘটনা। হর্ষিত রানার ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে তিনি স্কোয়াডে সুযোগ পান। অন্যদিকে ম্যাচের আগের দিন অসুস্থতার কারণে অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি ভারতের প্রধান পেসার জসপ্রীত বুমরাহ। ফলে দুই পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত নিলে আরশদীপের সঙ্গী হিসেবে একমাত্র বিকল্প ছিলেন সিরাজ।
নিজের সাফল্যের রহস্য জানিয়ে সিরাজ বলেন, ‘রঞ্জি ট্রফি খেলেই এখানে এসেছি। তাই এখানেও একই লাইন ও লেংথে বল করার চেষ্টা করেছি।’







