গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি নিয়ে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লং মার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য জোট। ৩১ অক্টোবর খুলনার ঐতিহাসিক বাবরী চত্বর (শিবাবাড়ী) ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের পথসভা সফল করতে সার্বিক প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য জোট।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) খুলনা প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, এমপি।
তিনি বলেন, সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ। এই লংমার্চকে সফল ও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৭ টি উপ-কমিটি এবং বিভাগভিত্তিক অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন শুরু হয়েছে।
মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকা থেকে আগত লংমার্চের গাড়ি বহরে এক হাজারের অধিক পাজেরো, হাইয়েস, মাইক্রোসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গাড়ি বহর যুক্ত থাকবে। এই বিশাল গাড়ীবহরটি ৩১ অক্টোবর সকাল ১১টার মধ্যে আমাদের খুলনার বাবরী চত্বরের (শিববাড়ী মোড়) পথসভাস্থলে এসে পৌঁছাবে। এ লক্ষ্যে লংমার্চের বার্তা গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রচারের অংশ হিসেবে আকর্ষণীয় পোস্টার, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া খুলনার কুদির বটতলা, রূপসা সেতু, জিরো পয়েন্ট, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে, গল্লামারী, ময়লাপোতা মোড়, জোড়াগেট, বৈকালী, নতুন রাস্তা, দৌলতপুর, ফুলবাড়িগেট, শিরোমনি, আফিস গেট, ফুলতলা থানাসহ ২০টি সুদৃশ্য তোরণ তৈরি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পথসভা সফল ও সুন্দর করার লক্ষ্যে মূল পথসভাস্থলে ৪৫/২৪ বর্গফুট বিশাল আকৃতির একটি মঞ্চ নির্মাণ হবে। সমাবেশকে সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ রাখতে সুগঠিত শৃঙ্খলা বিভাগের অধীনে বিপুল সংখ্যক নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। তারা সমাবেশস্থলে আগত সাধারণ মানুষকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তৎপর থাকবেন। পাশাপাশি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আমাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পার্কিং পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি বলেন, লংমার্চ চলাকালীন সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে এবং যেকোনো ধরনের যানজট এড়াতে ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট ও পৃথক পার্কিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে সুচারুভাবে পরিচালনা করতে স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই লং মার্চকে সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের পক্ষ থেকে সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক আহম্মদ হামিম রাহাত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাইদুর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি এডভোকেট মো. হানিফ উদ্দিন, জাগপার সভাপতি খান মো. রাশেদসহ অন্যান্য নেতারা।







