গতকাল সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা থেকে সৌদি আরবে যেতে পারেননি প্রায় সাড়ে ৮ হাজার প্রবাসী। তাদের কেউ চাকরি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। আবার কারও কাজ ও বসবাসের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছেন।
গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের সামনে সৌদিগামী যাত্রী ও স্বজনরা ভিড় করেন। তাদের প্রায় সবাই ফ্লাইট বন্ধের খবর পেলেও ‘যদি ফ্লাইট ছাড়ে’ সেই আশায় বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করছিলেন। এতে চরম দুর্ভোগও পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও স্বজনদের। তাদের কেউ কেউ বলছেন, ফ্লাইট বন্ধ হলেও তা কবে ছাড়বে সেটা কেউ বলতে পারছেন না। এজন্য গ্রামের বাড়িতে না গিয়ে লাগেজ-ব্যাগেজ নিয়ে বিমানবন্দর এলাকাতেই অবস্থান করছেন। কেউ কেউ ঢাকায় স্বজনদের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন।
সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের একের পর এক হামলার কারণে ওই বিমানবন্দরের কার্যক্রম থেমে গেছে। এতে দেশটিতে বাংলাদেশি প্রবাসী ও যাত্রীদের যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। গত শনিবার ঢাকা থেকে রিয়াদের বিমানবন্দরে কোনো ফ্লাইট যাচ্ছে না। রিয়াদের সঙ্গে এখন ঢাকা থেকে দাম্মামেও আকাশ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, শনিবার থেকে গতকাল সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত ঢাকা থেকে সৌদিগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ৬১টি ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। এই ৬১টি ফ্লাইটের মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী ফ্লাইট ২২টি। বাকি ৩৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
বেবিচকের তথ্যানুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, সালাম এয়ারের ৩টি, ইজিপ্টএয়ারের ১টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি ফ্লাইট রয়েছে। এসব ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিতের কারণে সোমবার পর্যন্ত ৮ হাজার ৩৮১ যাত্রী সৌদিতে তাদের গন্তব্যে যেতে পারেননি।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্সটি থেকে গতকাল পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাংলাদেশ সময় এবং তারিখ অনুযায়ী আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং যাত্রার সময়সূচি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য যথাসময়ে জানানো হবে।
এদিকে, দেশের বৃহত্তর বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা পথে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইটের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
সৌদি আরবের যাত্রীদের আপাতত বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা, টিকিট বুকিং ও অন্যান্য তথ্য জানতে বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
এদিকে, সৌদি আরবে ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুতিদের হামলার প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস। গতকাল দূতাবাসের এক ‘অতি জরুরি’ বিজ্ঞপ্তিতে ‘ঝুঁকিপূর্ণ ও জনবহুল স্থান’ এড়িয়ে চলার জন্য প্রবাসীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বিমানবন্দরসহ যে কোনো বেসামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা চিরতরে বন্ধে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল সোমবার এক শোকবার্তায় হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক যাত্রী ও নাগরিক আহতের ঘটনায় শোক ও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে এই দাবি জানানো হয়।







