জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে—এমন বক্তব্যের প্রমাণ চেয়েছে দলটি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের এ বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে তাঁকে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
সম্প্রতি অটোরিকশার বৈধতার দাবিতে চালকদের বিক্ষোভের পর তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার। এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি টেলিভিশন টকশোতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে আলোচনা হয়। এ কারণে তিনি অটোরিকশা উচ্ছেদের বিরোধিতা করছেন বলেও দাবি করা হয়।
এর সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের এক নেতার ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। শুক্রবারও তিনি একই বক্তব্য দেন। জামায়াতে ইসলামী এখন এ বক্তব্যের প্রমাণ দাবি করেছে।
এসব বক্তব্যকে দায়িত্বহীন আখ্যা দিয়ে শুক্রবার বিবৃতি জামায়াতে সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, প্রশাসকের বক্তব্য মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। এ ধরনের কাল্পনিক, অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গোলাম পরওয়ারের প্রতি ইঙ্গিত করে শুক্রবার ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক বললেন অটোরিকশাওয়ালাদের যে দাবি, সেটা সরকারের মানা উচিত। এটা হাস্যকর একটা বক্তব্য। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার নাকি ৭০০টা অটোরিকশা আছে।’
এ বক্তব্যের নিন্দা করে এহাসানুল মাহবুব বলেছেন, ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছ থেকে জনগণ দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও শালীন বক্তব্য প্রত্যাশা করে। কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ইঙ্গিত করে তার ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করার আগে এর সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা অপরিহার্য। অথচ এ ধরনের বক্তব্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন না করে মন্তব্য করা দায়িত্বশীল আচরণের পরিচায়ক নয়।
২০২৩ সালে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। সে সময়ের বিরোধী দল বিএনপি এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিল, চালকদের জীবিকা রক্ষার দাবিতে। বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে উচ্ছেদ প্রচেষ্টাকে নিষ্ঠুরতা বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। এবার একই অবস্থানে এখনকার বিরোধী দল জামায়াত।
জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অটোরিকশা চলাচল, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চালকদের জীবিকা সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো বাস্তবতা ও জনস্বার্থের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা অবস্থানকে খণ্ডন করতে হলে যুক্তি, তথ্য ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা করা উচিত; কোনো নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তুলে নয়।







