আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে লিওনেল মেসির আবেগঘন বিদায়ের দু’দিন পরই স্পেনের হয়ে তাকে খেলাতে চাওয়ার একটি গল্প সামনে এসেছে। স্পেনের বয়সভিত্তিক দলের সাবেক সমন্বয়ক গিনেস মেলেন্দেজ বার্সেলোনার যুব দলে খেলার সময় মেসিকে দেশটির হয়ে খেলতে রাজি করাতে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু কিছুতেই রাজি হননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) পক্ষ থেকে সেই চেষ্টার পুরোনো স্মৃতি স্মরণ করছেন মেলেন্দেজ। স্প্যানিশ গণমাধ্যম ওন্দা সেরোর ‘রাদিওএস্তাদিও নোচে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমি মেসিকে প্রথম তার ১২ বছর বয়সে দেখেছিলাম। তাকে দেখে মনে হয়েছিল, যেন কোনো কার্টুন থেকে উঠে এসেছে। সে বল পায়ে নিতো, এরপর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যেত, পথে ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করত সবাইকে।’
মেলেন্দেসের তথ্যমতে, তখন বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়ায় মেসি ইতোমধ্যে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছিলেন। একই প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন জেরার্ড পিকে ও সেস ফাব্রেগাসও। পরবর্তী সময়ে স্প্যানিশ ফুটবলে সফল ক্যারিয়ার গড়েন তারাও। মেসিকে স্পেনের হয়ে খেলতে রাজি করানোর কৌশলের অংশ হিসেবে তার ঘনিষ্ঠ সতীর্থদের মাধ্যমেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল।
ওই প্রসঙ্গে স্পেন অনূর্ধ্ব-১৫ দলের তৎকালীন কোচ মেলেন্দেজ বলেন, ‘তারা (আরএফইএফ) আমাকে বলেছিল, আর্জেন্টাইন ছেলেটিকে স্পেনের হয়ে খেলতে রাজি করাতে হবে। আমরা সম্ভাব্য সব উপায়েই চেষ্টা করেছিলাম, এমনকি তার নিজের সতীর্থদের মাধ্যমেও। তাকে রাজি করানোর কোনো উপায়ই ছিল না। ১৪ বছর বয়সী ছেলেদের নিয়ে আমরা ইংল্যান্ডে একটি টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছিলাম। সেখানে নেদারল্যান্ডস এবং পর্তুগালও ছিল। এই বয়সী ছেলেদের জন্য এমন টুর্নামেন্ট ছিল অসাধারণ একটি সুযোগ। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। লিও আমাদের হয়ে খেলতে চাইত না। সে নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিল, আর্জেন্টিনার হয়েই খেলতে চেয়েছিল।’
একই সাক্ষাৎকারে ২০০৩ সালের একটি মজার ঘটনাও তুলে ধরেন মেলেন্দেজ। সেবার আর্জেন্টিনার কোচ হুগো তোকাল্লির সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার। ওই প্রসঙ্গে মেলেন্দেজের ভাষ্য, ‘আমরা ফিনল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলাম এবং সেমিফাইনালে উঠি। সেখানে আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনা। আমরা খাবার ঘরের দিকে যাচ্ছিলাম, এমন সময় কেউ একজন আমার নাম ধরে ডাকল। পেছনে ফিরে দেখি, আর্জেন্টিনার কোচ তোকাল্লি।’
তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বললাম, “আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হব, কারণ তোমরা মেসিকে দলে আনোনি। তোমাদের তাকে নিয়ে আসা উচিত ছিল, কারণ সে আমাদের হয়ে খেলতে চায়নি।” জবাবে তিনি বললেন, “আমি একটি ম্যাচের আয়োজন করব এবং প্রথমবারের মতো তাকে দলে ডাকব। কারণ তারা আমাকে তার একটি ভিডিও পাঠিয়েছে। ছেলেটি অসাধারণ।”’
এরপর ২০০৪ সালের ২৯ জুন ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনার অনূর্ধ্ব-২০ দল। এক প্রীতি ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দেয় তারা। আর্জেন্টিনার উদীয়মান তারকা মেসির ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল ম্যাচটি। সেই বিশেষ দিনে ১৭ বছর বয়সী মেসি একটি গোল করেন এবং দুটি গোলে অ্যাসিস্ট করেন। এর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের প্রতি তার অঙ্গীকারের সূচনা আরও দৃঢ় হয়।







