শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে অর্ধেক কাজ আগেই সেরে রেখেছিল ভারত। বাকি অর্ধেক কাজটা নিখুঁতভাবে সারলেন বোলাররা। ফাইনালে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগের দাপটে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তুলল ভারতের মেয়েরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লঙ্কানদের ৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে হারমানপ্রীত কৌরের দল। ভারতের দেয়া ১৮৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১১ রানে থেমে যায় লঙ্কানদের ইনিংস।
এ নিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো মহাদেশীয় সেরা ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরল ভারতের মেয়েরা। টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে তাদের ট্রফি সংখ্যা দাড়াল ৪-এ। এর আগে ওয়ানডে ফরম্যাটের চারটি আসরেই—২০০৪, ২০০৫/০৬, ২০০৬ ও ২০০৮ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।
এদিন টস জিতে আগে ব্যাটিং বেছে নিয়ে শুরু থেকেই লঙ্কান বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান ভারতের দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। তারা ১২.৫ ওভারে ১২৯ রান যোগ করেন, যা নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে যেকোনো উইকেটে এবং অন্তত পাঁচ দলের আসরের ফাইনালে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটিতে এশা ওজা ও থির্থা সতীশের যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৬টি শতরানের জুটির রেকর্ড স্পর্শ করেন এই দুই ব্যাটার।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন শেফালি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নারী এশিয়া কাপ ইতিহাসে এটি সবচেয়ে দ্রততম ফিফটি। আগের রেকর্ডটি ছিল মান্ধানার, ২০২২ সালে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফিফটি করেছিলেন ২৫ বলে। শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন শেফালি।
তার সঙ্গী মান্ধানা ৩৫ বলে ফিফটি ছুঁয়ে শেষ পর্যন্ত ৩৯ বলে ৫টি চার ও ৩ ছক্কায় ৫৯ রান করেন। শেষদিকে রিচা ঘোষের ১৭, হারমানের ১৪ ও গুনালান কামালিনির ৫ বলে ১৫ রানের ক্যামিও ভারতকে নিয়ে যায় ৫ উইকেটে ১৮৩ রানে—যা নারীদের কোনো টি-টোয়েন্টি আসরের ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। শ্রীলঙ্কার হয়ে চামারি আতাপাত্তু, মিথালি আয়োধ্যা ও নীলাক্ষিকা সিলভা একটি করে উইকেট নেন।
১৮৪ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারেই ইমিশা দুলানি ৪ রানে সাজঘরে ফেরেন। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন বিশমি গুনারত্নে ও চামারি আতাপাত্তু। তবে ৩২ বলে ৩৬ রান করে লঙ্কান অধিনায়ক ফেরার পরই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা।
১০ম ওভারের তৃতীয় বলে দীপ্তি শর্মার বলে স্ট্যাম্পিং হন আতাপাত্তু। একই ওভারের শেষ বলে বোল্ড হন ২২ বলে ২০ রান করা গুনারত্নে। এরপর শ্রীলঙ্কার ইনিংস তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা।
ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন শ্রী চরণী। চার ওভারে ২০ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। দীপ্তি শর্মা ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।







