রাজশাহীর পদ্মা কলেজের ঘটনার পর ছাত্রদলকে ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির। এর প্রতিবাদে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেছেন, ‘৪ আগস্ট জবিতে শিবিরের শিক্ষা হয়নি, তাদের আরও বড় শিক্ষার প্রয়োজন।’ ছাত্রদল সভাপতির এ বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি দাবি করেছেন, ‘ছাত্রদল সভাপতির বক্তব্য থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় শিবিরের ওপর সংঘটিত সংঘর্ষ তার নির্দেশেই সংগঠিত হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনাগুলোও হাইকমান্ডের নির্দেশে হয়ে থাকে। আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নির্দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সহাবস্থানের জন্য মারাত্মক হুমকি।’
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেসবুক পোস্টে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম লেখেন, “রাজশাহীর পদ্মা কলেজের ঘটনার পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির মতো দায়িত্বশীল একটি পদ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক। তার বক্তব্য থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও আলিয়া মাদ্রাসায় গত ৪ আগস্ট সংঘটিত সংঘর্ষ তার নির্দেশেই হয়েছে। যা নিঃসন্দেহে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।’’
তিনি বলেন, “এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনাগুলোও হাইকমান্ডের নির্দেশে হয়ে থাকে। আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের নির্দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও সহাবস্থানের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
তিনি আরও বলেন, “গতকাল রাজশাহী পদ্মা কলেজে ভর্তি-সহায়তার জন্য স্থাপিত ছাত্রশিবিরের হেল্প ডেস্ক ও দায়িত্বশীল নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রদলের অছাত্রদের একটি দল বিনা উস্কানিতে হামলা চালায়। এতে আমাদের কয়েকজন ভাই আহত হন। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার পরও কলেজ প্রশাসন কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।”
ছাত্রদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এর আগেও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও বক্তব্যে ছাত্রশিবিরকে উৎখাত, জবাই, হত্যা, দেশ থেকে বের করে দেওয়া এবং রাজনীতি করতে না দেওয়ার মতো উসকানিমূলক ও তীর্যক বক্তব্য দিয়েছে। এসব বক্তব্যের আমরা পাল্টা কোনো জবাব দিইনি। কারণ আমরা চেয়েছি, ক্যাম্পাসে আর ফ্যাসিবাদী আমলের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে না আসুক; বরং সহাবস্থান, পারস্পরিক সম্মান ও কল্যাণমুখী রাজনীতির চর্চা প্রতিষ্ঠিত হোক।”
ছাত্রদল সভাপতির আগ্রাসী অবস্থান ও বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিন্তু ছাত্রশিবিরের একজন দায়িত্বশীলের বিচ্ছিন্ন একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির যে আগ্রাসী অবস্থান ও বক্তব্য আমরা দেখলাম, তা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের পরিচয় বহন করে না। বরং এ ধরনের বক্তব্য সংঘাত ও সন্ত্রাসের পথকে আরও উন্মুক্ত করে এবং ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশকে বিপন্ন করে।
সহাবস্থানের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কোনো পক্ষেরই সন্ত্রাস, হামলা, উসকানি কিংবা প্রতিশোধের রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে; কিন্তু তার সমাধান হতে হবে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। শিক্ষাঙ্গনে ভয়, হামলা ও দখলদারিত্বের সংস্কৃতির পরিবর্তে সহাবস্থান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণকেন্দ্রিক রাজনীতিই প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত।”
শিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, “গতকাল ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিনা উস্কানিতে ছাত্রশিবিরের কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর; উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতির দেওয়া বক্তব্যের কিছু অংশ রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত হওয়ায় কেন্দ্রীয় সংগঠনের পক্ষ থেকে তাকে সতর্ক করা হয়েছে। ছাত্রশিবির কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যকে সমর্থন করে না।”
প্রসঙ্গত, গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে হেল্পডেস্কের ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবির বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় ছাত্রদলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির। এ বক্তব্যকে ঘিরে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।







