সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নাম প্রকল্পটির নামফলকে উল্লেখ করা ছিল। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) জিএস ও শিবির নেতা মাজহারুল ইসলামের নামও এতে ছিল।
মাজহারের নাম থাকার বিষয়টিকে প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় হিসেবে উল্লেখ করে তা অপসারণ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। এ পোস্টে তিনি জাবির ওই ঘটনার একটি সংবাদের ফটোকার্ড ও লিংক যুক্ত করেন।
ফেসবুকে পোস্টটির ক্যাপশনে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম লেখেন, “সবকিছু করলেও ক্রেডিট কিন্তু তাদের দিতে হবে! হায়রে সংকীর্ণতা!”
এদিকে, গতকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে নামফলকটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নামফলকটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিভিন্ন স্থাপনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রধান অতিথি বা যিনি উদ্বোধন করেন, সাধারণত শুধু তার নাম উল্লেখ করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার নামফলকেও এই রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জাকসুর সদ্য সাবেক জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যাবে না— এমন কোনো নীতিমালা আমরা দেখিনি।”
তিনি জানান, মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নে তারা প্রায় ২৫ লাখ টাকার কাজ করেছেন। এর মধ্যে দুটি ইমার্জেন্সি রুম আধুনিকায়ন, ওটি স্থাপন, রোগীর ট্রলি, হুইলচেয়ার এবং ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ল্যাব সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে। এসব কাজের বিষয়ে উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য ও প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছিল এবং তাদের অনুমোদনও নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, “নামফলকে তার নাম থাকা কোনো স্বীকৃতির বিষয় নয়। নামটি না থাকলেও তাদের কিছু যায় আসে না। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করার পর শুধু একটি নাম থাকার কারণে নামফলক সরিয়ে নেওয়া দুঃখজনক।”
তিনি বলেন, “এর পরিবর্তে সবার উচিত শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করা। কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সামান্য একটি নামফলককে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন অবস্থানকে তাদের কাছে সংকীর্ণ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাবি মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নামফলকটি স্থাপন করা হয়।







