কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে চার দফা দাবি আদায়ে আজ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।
সোমবার (২১) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে এই মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) দেওয়া প্রেস ব্রিফিং ছিল অস্পষ্ট এবং দায়সারা। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং আগেই ঘোষিত চার দফা বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁরা এ কর্মসূচি ডেকেছেন।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবিগুলো হলো—অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার শাস্তি নিশ্চিত করা; প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার এবং আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার; বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারে একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন।
ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, দুপুর ১২টায় ব্রিফিং করার কথা থাকলেও পুলিশ তা করেছে বেলা দুইটায়। সেখানে শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসনের কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান জানানো হয়নি। তাছাড়া রোববার সন্ধ্যায় আনাস নামের এক ব্যক্তিকে আটকের তথ্য জানা গেলেও ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার তা অস্বীকার করেন। পুরো তদন্ত নিয়েই একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল অভিযোগ করে বলেন, “গ্রেপ্তার তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাসকে আটকের খবর জানা গেলেও ব্রিফিংয়ে বলা হয় তাকে আটক করা হয়নি। তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে কেন ছাড়া হলো, তারও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। এছাড়া আরেক আসামি সিয়ামের বয়স নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে; সে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়লেও বয়স দেখানো হয়েছে ১৫ বছর, অথচ তার ফেসবুক তথ্য অনুযায়ী বয়স ২০ হওয়ার কথা।”
নাজমুল আরও বলেন, আইফোন নিয়ে অপ্রতিম বাসা থেকে বের হয়েছিল—এটি সবার জানা থাকলেও পুলিশ দীর্ঘ সময় নিয়েও কোনো নতুন তথ্য বা আসামির স্বীকারোক্তির সুস্পষ্ট বিবরণ প্রকাশ করতে পারেনি। তদন্তে আরও সময় লাগবে—এমন দায়সারা বক্তব্যের প্রতিবাদেই তাঁরা ফের রাজপথে নামছেন।







