সাদিক কায়েম-এস এম ফরহাদের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একশত বছরের ইতিহাসে বর্তমান ডাকসুর এক বছরের কার্যক্রমকে সবচেয়ে সফল বলে উল্লেখ করেছেন প্রবাসী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরশাদ হোসনাইন মামুন।
তার ভাষ্য, ‘এই এক বছরে নির্বাচিত ছাত্র সংসদের নেতা নেত্রীরা বিশ্ব বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজেরা সন্ত্রাস করেনি, কাউকে করতেও দেয়নি; শিক্ষার পরিবেশ বজায় রেখেছে; চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি করেনি, বিলাস বহুল গাড়িতে চড়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়নি।’
তিনি বলেছেন, ‘হল থেকে গেস্ট রুম, গণরুম উচ্ছেদ করেছে; মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের হলে সিট বণ্টনের ব্যবস্থা করেছে। হল গুলোতে খাবার পানির ফিল্টার, লাইব্রেরি ও কমন রুমে এসি লাগিয়েছে; হলে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ক্যাফটারিয়তে খাবারের মান উন্নত করেছে।’
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন।
ফেসবুক পোস্টে আরশাদ হোসাইন মামুন লেখেন, “ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে আপনি আমি দ্বিমত পোষণ করতে পারি (আমি নিজে কোনো দিন শিবির বা জামাতের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম না এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে ধর্মীয় কিংবা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি একদমই পছন্দ বা সমর্থন করি না) কিন্তু ভালো কাজের, যুগান্তকারী অর্জনের, গঠনমূলক নেতৃত্বের প্রশংসা করার মতো সততা ও উদারতা আমার আছে।”
তিনি বলেন, “ঢাবির একশত বছরের বেশি ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ডাকসুর কার্যক্রমে আগাগোড়া মুগ্ধ। কয়েকবার সরকার চালানোর অভিজ্ঞতার দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকার; যখন কোনো সমস্যার সমাধান করতে না পেরে ৬ মাসের দুধ খাওয়া শিশু সরকার হয়ে যায়, তখন ডাকসুর এক বছরের অর্জন বিস্ময়কর, সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
তিনি আরও বলেন, “এই এক বছরে নির্বাচিত ছাত্র সংসদের নেতা-নেত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজেরা সন্ত্রাস করেনি, কাউকে করতেও দেয়নি; শিক্ষার পরিবেশ বজায় রেখেছে; চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করেনি, বিলাসবহুল গাড়িতে চড়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়নি। হল থেকে গেস্ট রুম, গণরুম উচ্ছেদ করেছে; মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের হলে সিট বণ্টনের ব্যবস্থা করেছে। হলগুলোতে খাবার পানির ফিল্টার, লাইব্রেরি ও কমন রুমে এসি লাগিয়েছে; হলে এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের মান উন্নত করেছে।”
বিদেশি সাহায্য সংস্থা থেকে ফান্ড আনার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, “বিদেশি সাহায্য সংস্থা থেকে ফান্ড এনে ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টার আধুনিক করেছে; কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার করেছে, এসি লাগিয়েছে। মেয়েদের জন্য আলাদা জিমনেশিয়াম বানিয়েছে। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন জায়গায় মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহের যন্ত্র বসিয়েছে; মেয়েদের জন্য সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে স্তন ক্যান্সার শনাক্তকরণ ‘চিকিৎসা শিবির’ আয়োজন করেছে।”
তার ভাষ্য, “যাতায়াতের জন্য কয়েকটা নতুন বাস, দূরবর্তী হলের জন্য নতুন শাটল বাস, শনিবারে বাস সার্ভিস চালু করেছে। অনেকগুলো নতুন হল বানানোর জন্য প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ফান্ডিং নিশ্চিত করেছে; চীনা দূতাবাসের সাথে কাজ করে মেয়েদের জন্য বিশাল ছাত্রী হলের অনুমোদন পেয়েছে।”
চারশত এর বেশি ছাত্রছাত্রীর চাকরির ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, “ক্যাম্পাসে চাকরি মেলা আয়োজন করে চারশত এর বেশি ছাত্রছাত্রীর জন্য ভালো বেতনে চাকরির ব্যবস্থা করেছে; ক্যাম্পাসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের এনে বিনামূল্যে ছাত্রছাত্রীদের চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করেছে। মাত্র এক বছরে এতগুলো শিক্ষার্থীবান্ধব কাজ করা; সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া এবং সেসব বাস্তবায়নের জন্য অর্থের সংস্থান করা— এক কথায় অসাধারণ। ডাকসু ভিপি, জিএসসহ সবাইকে অভিনন্দন ও শুভকামনা।”
নেতৃত্ব শূন্যতা নিয়ে তিনি বলেন, “গত ২ বছর বাংলাদেশের দিকে তাকালে যে বিষয়টা চোখে পড়ে সেটা হলো সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্ব শূন্যতা আর আমি, ক্ষুদ্র চিন্তা, স্বার্থপরতা। পরিবারতন্ত্র স্বাধীন, মেধাবী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও বিকশিত হতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এই জন্য ৭০/৮০/৯০ বছর বয়সের আজ্ঞাবহ লোকজন এখনও আমাদের রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য। নতুন নেতৃত্ব নাই বললেই চলে।”
ডাকসুকে মডেল হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, “ডাকসু গত এক বছর যে মডেল অনুসরণ করে চলেছে, তাতে শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন, সৃজনশীল, গঠনমূলক, ইতিবাচক, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তোলার একটা উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।”
আরশাদ হোসাইন মামুন বলেন, “তারেক রহমান ও বিএনপি দলীয় সংকীর্ণ রাজনীতির ক্ষুদ্র চিন্তার কাছে আত্মসমর্পণ না করে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যথাসময়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে অনুপ্রাণিত করুন। ছাত্রদল না জিতলে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না—এই ধরনের ফালতু চিন্তা দেশে তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এবং দেশের নেতৃত্বশূন্যতা প্রলম্বিত করবে।”
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ২০২৫ সালের কার্যকরী কমিটির নির্ধারিত এক বছরের মেয়াদ গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর, দীর্ঘ ছয় বছর বিরতিতে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে এবং মো. আবু সাদিক (ভিপি) ও এস এম ফরহাদ (জিএস) দায়িত্ব গ্রহণ করেন।







