জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ৬ দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে জনস্রোতে পরিণত হয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। বিকেল ৪টার আগেই ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
শনিবার দুপুরের পর থেকেই লালদিঘি ময়দান ছাড়িয়ে চারপাশের নিউমার্কেট, হকার্স মার্কেট, কোতোয়ালি মোড়, কাজির দেউড়ি, লাভলেইন, সিআরবি মোড়, টাইগারপাস ও আন্দরকিল্লা এলাকা মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা গড়াতেই পুরো লালদিঘি ময়দানে তিল ধারণের ঠাঁই অবশিষ্ট ছিল না।
কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা এবং চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ও মহানগরের ১৬টি থানা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে লালদিঘির পাড়ে জমায়েত হন। এ ছাড়া ফেনী ও কুমিল্লার নেতাকর্মীরাও দলে দলে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। নেতাকর্মীদের হাতে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার, যেখানে ৬ দফা দাবি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হচ্ছে। বর্তমানে লালদিঘি ময়দানে চট্টগ্রাম মহানগর, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ওপর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চাপ সৃষ্টি এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানাতেই এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের এই লংমার্চ ইতিমধ্যে মিরসরাই অতিক্রম করে সীতাকুণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে এসে পৌঁছাবেন।
লালদিঘির এই মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি ও বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, দলটির সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মাওলানা মামুনুল হক এবং এনসিপি, খেলাফত মজলিস ও এবি পার্টির শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের। কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এই সমাবেশ থেকে পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি ও কঠোর বার্তা ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







