ব্যাংক হিসাব খোলা ও কিছু নির্দিষ্ট দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছেন সরকারপ্রধান।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থবিল পাসের দিনে বিশেষ বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
তিনি অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলছিলেন, বাজেটে শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছিল। এছাড়া বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রেশন ও সম্পত্তির দলিল মিউটেশনের ক্ষেত্রেও টিআইএন দাখিলের বিধান করার প্রস্তাব ছিল। যেহেতু এই নিয়মগুলো নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, তাই তিনি এই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করার জন্য অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান।
অপরদিকে বাজেটে আগে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হলেও প্রধানমন্ত্রী তা আরও ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে চার লাখ টাকা করার নতুন প্রস্তাব দেন। ফলে করদাতারা অতিরিক্ত আয়ের ওপর করছাড়ের বড় সুযোগ পাবেন।
সংসদে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার এমন একটি রাজস্ব ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায় যেখানে করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিয়ে দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবেন এবং গর্ব বোধ করবেন। ব্যক্তি করদাতাদের করভার কিছুটা লাঘব করে তাদের স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একই ধারাবাহিকতায় আগামী করবর্ষগুলোর করমুক্ত আয়ের সীমা পুনর্বিন্যাস করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলছিলেন, ২০২৬-২৭ কর বছরের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা চার লাখ টাকা, ২০২৮-২৯ এবং ২৯-৩০ কর বছরের জন্য সাড়ে চার লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ কর বছরের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করা হোক।







