পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিজ স্ত্রীকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। ঐ ছাত্রদল নেতার নাম সজীব প্রমাণিক, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক।
এ ঘটনায় সজীবের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী রুমি খাতুন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে সজীবের সঙ্গে তার বিয়ে হয় বলে জানা গেছে।
রুমি খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই সজীবের সঙ্গে তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। সজীব বিয়ের পর ও অন্য এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক রাখতেন। ঐ মেয়ে যখন জানতে পারে সজিব বিবাহিত মেয়ে তখন রুমি খাতুনকে সব বলে দেয়। এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলায় সজীব উল্টো তাকে দোষারোপ করে। এ সময় সজীব রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রুমি খাতুনের ছাত্রত্ব শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন। প্রায় দুই মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগেটে সজীব তাকে মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা সজীবকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান বলে জানান তিনি।
রুমী খাতুন বলেন, “গতকাল রাত ১টার দিকে সজীব, তার বাবা ও মা মিলে আমাকে মারধর করেন। এ সময় সজীব আমাকে কিল-ঘুষি ও বুকে-পেটে লাথি মারা হয়। পরে সকালে আমার বাবা-মা আমাকে নিতে এলে আমি বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সজীবের মা বটি নিয়ে আমাকে কোপ দিতে আসেন। আমি হাত দিয়ে থামাতে গেলে তা আমার হাতে কোপ লাগে। বিষয়টা নিয়ে আমরা থানায় মামলা করবো।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সজীব প্রামাণিক। তিনি বলেন, “আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ওর হাতে কেউ কোপ দেয়নি। আমার এলাকার প্রতিবেশীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ও বের হওয়ার সময় গেটের সঙ্গে ওর হাত কেটে যায়।”
হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে সজীব বলেন, “আমি তাকে কোনো হুমকি দিইনি। গত রাতে আমাদের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং হাতাহাতিও হয়েছে। সেও আমার গায়ে হাত তুলেছে। পরে আমার বাবা-মা এসে আমাদের দুজনকে থামান। আমার মা-বাবা তার গায়ে হাত দেননি।”
ছাত্রদলের সভাপতি শেখ মোজাহিদ হোসেন বলেন, “এই বিষয়টি আমি মাত্র আপনার থেকে জানতে পারলাম। আমাদের কমিটি গঠনের সময় ও বিবাহিত কেউ ছিলো না। যদি আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসে, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”







