চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ ও পামবাগান সড়কের মোড় এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রাত আড়াইটার দিকে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় ছিল। তার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে ছাত্রলীগের একটি মিছিলে অংশ নেন বলে জানান। পরে ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ওয়াহিদুল আলম তাকে সংগঠনের কিছু পোস্টার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য দেন। তবে নিজের ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি পোস্টারগুলো বিতরণ না করে ফেলে দেন বলে জানান ওই শিক্ষার্থী।
মিছিলের পর তাকে ছাত্রলীগের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয় বলেও তিনি জানান। পরে ওই গ্রুপে তার যুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে এলে তাকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।
শিক্ষার্থী ও চাকসু নেতাদের দাবি, ঘটনাস্থলে ওই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে ‘জিরো পয়েন্ট, চবি’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান পাওয়া যায়। গ্রুপটিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ার ও সাবেক সহসম্পাদক ওয়াহিদুল আলমসহ ১৬৫ জন সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
শিবির নেতাকর্মীদের দাবি, ওই গ্রুপে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতো। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সেখানে থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসের তথ্য আদান-প্রদান করতেন বলেও দাবি করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, রাতে একদল শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল নিয়ে ঘোরাঘুরি করার সময় বিজ্ঞান অনুষদ ও পামবাগান সড়কের মোড়ে ওই শিক্ষার্থীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। একপর্যায়ে তিনি ‘ক্যাম্পাসে শিবিরের টহল চলছে’—এমন একটি বার্তা পাঠালে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে তাকে নিরাপত্তা দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ওই শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেন।
চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল হোসেন বলেন, সন্দেহের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তার ফোনে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ এবং জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্টতার স্বীকারোক্তি পাওয়া গেলে তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা পুলিশ প্রশাসন নেবে।







