ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিতর্কিত বেসরকারি বিনিয়োগ ও বিশ্বকাপ শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনার প্রকাশ্যে বিরোধিতা ও কড়া সমালোচনা করায় সংস্থাটির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) কেভিন লামোরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে লামোরের সঙ্গে ফিফার পেশাগত সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ফিফার এক কর্মকর্তার বরাতে সোমবার এমনটাই জানিয়েছে দ্যা গার্ডিয়ান।
২০০৭ সালে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ইউয়েফায় যোগ দেয়া লামোর পরবর্তীতে সংস্থাটির উপ-মহাসচিব হন এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফায় সিওও পদে যোগ দেন। ইনফান্তিনোর প্রস্তাবিত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পরই এর তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।
লামোর অভিযোগ করেছিলেন যে, ফিফা প্রশাসনকে এই পরিকল্পনা নিয়ে প্রতারিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ইনফান্তিনো মনে করেন “তিনি নিজেই ফিফার প্রতিচ্ছবি, অথচ তার কাজ ফিফার সেবায় নিয়োজিত থাকা।”
বিতর্কের মুখে গত ৩১ জুলাই পরিকল্পনাটি স্থগিত হওয়ার আগেই লামোর স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, সত্য বলার জন্য চাকরি হারাতেও তার কোনো দ্বিধা নেই। ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম ই-মেইলের মাধ্যমে লামোরের বিদায়ের কথা জানান।
এক বিবৃতিতে ফিফার মুখপাত্র জানান, কেভিন লামোরের দুই বছরের সেবার জন্য তাকে ধন্যবাদ এবং তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করা হচ্ছে। তবে বরখাস্তের সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশে অস্বীকৃতি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিদায়ের আগে ল্যামুর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ফিফার সাধারণ কর্মীরা অবহেলা ও হুমকিস্বরূপ আচরণের চেয়ে ভালো কিছু পাওয়ার দাবিদার।
ইনফান্তিনোর ঠিক দুই স্তর নিচের পদমর্যাদায় থাকা সত্ত্বেও চলতি মাসের শুরুতে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত শীর্ষ নির্বাহীদের বৈঠক থেকে লামোরকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এর আগে একই পরিকল্পনার প্রতিবাদে ইনফান্তিনোর সিনিয়র উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো পদত্যাগ করেন, যা দীর্ঘদিনের সহকর্মী ইনফান্তিনোর ওপর পদত্যাগের নতুন চাপ তৈরি করেছে।







