পথটা গড়ে দিয়েছিলেন পেসাররা। অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে পড়েছিল গতকালই। ব্যাটারদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল স্বাভাবিক খেলাটা ধরে রাখা। সে চ্যালেঞ্জে এখন পর্যন্ত উতরে গেছেন সব ব্যাটার। বাংলাদেশ ২০০ ছুঁয়ে ফেলেছে। লিড নিয়ে নিয়েছে এবার। তাতেই একটা অভূতপূর্ব কীর্তি গড়ে ফেলেছেন নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতিতে বাংলাদেশ গিয়েছিল ১৭ রানের দূরত্বে থেকে। সে দূরত্বটা ঘুচে গেছে বিরতির পর চতুর্থ ওভারেই। মিচেল স্টার্কের শর্ট বলটা তানজিদ তামিম ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে সীমানাছাড়া করতেই ২০০ ছুঁয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
৮৯ রানের ইনিংস খেলে এই কীর্তিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তামিম। তার সামনে এখন সেঞ্চুরির হাতছানিও। ৪৯ রান করে আউট হওয়া মুমিনুল হকও এখানে একটা বড় অবদান রেখেছেন। ত্রিশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলে নাজমুল হোসেন শান্তও দলকে ভালোভাবেই সাহায্য করেছেন।
এই ত্রয়ীর সম্মিলিত প্রয়াসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো লিডের দেখা পেল বাংলাদেশ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় দুই টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ, সেই ২ টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল দলটি। লিড নেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না!
এবারের লিড নেওয়ার কীর্তি বাংলাদেশের জন্য যেমন বিরল, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসেও বিষয়টা অভূতপূর্ব। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বর বা তারও নিচে থাকা দলকে তারা আতিথ্য দেয় কালেভদ্রে। সেখানেও ফলটা এযাবতকালে হয়েছে বেশ একপেশে। ইতিহাসে এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ের ৯ বা তার চেয়ে নিচে থাকা দলকে আতিথ্য দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জিতেছে ৪ ম্যাচেই, এইসব ম্যাচে কখনোই সফরকারী দলটা লিড নিতে পারেনি।
বাংলাদেশের ২০০৩ সালের সেই সফরের বাইরে ৯ বা তার চেয়ে নিচু র্যাঙ্কিংয়ের দল হিসেবে জিম্বাবুয়ে পরের বছর গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। প্রথম টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ৯ উইকেটে হারায় অজিরা। সেই টেস্টেও প্রথম ইনিংসে লিড নিতে পারেনি জিম্বাবুইয়ানরা।
বাংলাদেশের এখন টেস্ট র্যাঙ্কিং ৯। আজকের এই লিড নেওয়ার কীর্তি অস্ট্রেলিয়াকে দিল এক অচেনা তেঁতো স্বাদ। র্যাঙ্কিংয়ে ৯ বা তারও নিচে থাকা দলের কাছে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে পড়ার স্বাদ।







