অনলাইনে যাচাইযোগ্য জেএসসি, মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ‘ক’ ক্যাটাগরিভুক্ত হিসেবে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। এ ধরনের আবেদন মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা/জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং এনআইডি উইংয়ের সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক ও পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষা সনদের পাশাপাশি জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় অন্যান্য প্রমাণাদি বা দলিলাদি গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুসরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপন নং ১৭.০০.০০০০.০৬৪.২২.০৪৫.১৯ (অংশ-১)-৩০৫১ অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে যাচাইযোগ্য শিক্ষা সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদনগুলো নির্ধারিত ‘ক’ ক্যাটাগরি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। তবে আবেদন অনুমোদন বা বাতিলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও প্রমাণাদি যাচাই যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো আবেদন ইলেকট্রনিকভাবে অনুমোদন বা বাতিল করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে CMS-এ আবশ্যিকভাবে নোট দিতে হবে।
এদিকে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে প্রতি মাসে প্রত্যেক নিষ্পত্তিকারী কর্মকর্তার ন্যূনতম তিনটি আবেদন সঠিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে কি না, তা যাচাই করে নির্ধারিত ছকে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। পরে ওই প্রতিবেদন পরিচালক (অপারেশন্স)-এর ইন্টারনাল অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে।
নির্দেশনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। একইভাবে জন্মতারিখের সঙ্গে নিজ নাম এবং পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তন সংক্রান্ত আবেদনও মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তিযোগ্য হবে। এ ছাড়া জন্মতারিখ, নিজ নাম এবং পিতা-মাতার নামের সম্পূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একই ফিল্ডে দ্বিতীয়বার সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। পরিপত্রে বর্ণিত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সব ধরনের জন্মতারিখ সংশোধনের এখতিয়ার ঢাকায় এনআইডির ডিজির অধীন করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে হইচই পড়ে যায়। সব আবেদনকারী ঢাকায় ভিড় করতে থাকে। পরে ইসির বোধোদয় ঘটে, সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না। তাই বৃহস্পতিবার পরিপত্র দিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অধীনে সীমিত পরিসরে ন্যস্ত করা হলো।







