জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের দাবিতে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আজ শনিবার আয়োজিত এ কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
গণমিছিলটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে এক সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জনগণের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় ন্যায়বিচার, জবাবদিহি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
বক্তারা তিন দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি শহীদ ওসমান বিন হাদীর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে।
হাতিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ ফয়জুল বারী তারিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ও অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক। তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। সেই আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় অপরাধীদের দ্রুত বিচার এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন জরুরি।”
এ সময় বক্তব্য দেন হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বোরহান উদ্দিন মাস্টার, হাতিয়া পৌর জামায়াতের আমির তাওফিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম উন্নয়ন সম্পাদক ও জামায়াত-সমর্থিত হাতিয়া পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী সাব্বির আহমেদ তাফসির এবং হাতিয়া উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল ওহাব বাবুল।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মিজানুল হক মামুন, ১০ নম্বর জাহাজমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট নোমান সিদ্দিক, সুখচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রকিবুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদপ্রার্থীরা।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ধারণ করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সবশেষে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বোরহান উদ্দিন মাস্টার শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।







