কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও দেশটির সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, রাডার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন হ্যাঙ্গারসহ বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করার দাবি করেছে আইআরজিসি। আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি দূরপাল্লার রাডার কেন্দ্র, একটি টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট সিগন্যাল গ্রহণ ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটির একটি এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারেও হামলা চালানো হয়েছে। এতে কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে অথবা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি পরে দ্বিতীয় একটি বিবৃতি দিয়ে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের আরও সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিতে আগাম সতর্কীকরণ রাডার, একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থা, একটি এফপিএস-১১৭ রাডার, একটি প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি আকাশ প্রতিরক্ষা স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আগে এ অঞ্চলের রাডার নজরদারি দুর্বল করতেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীও দাবি করেছে, তারা ‘কামিকাজে ড্রোন’ ব্যবহার করে কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, ক্যাম্প আরিফজানের প্রশাসনিক ভবন ও দিকনির্ণয়কারী অ্যান্টেনা, ক্যাম্প আল-আদিরির হেলিকপ্টার পার্কিং এলাকা এবং আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির সেনা সদস্যদের আবাসন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী বাহিনীর অপতৎপরতার কারণে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।’
আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটি ও আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে হামলার কথা জানিয়ে আইআরজিসির বিবৃতি প্রকাশের পরপরই ইরানের সেনাবাহিনী এ নতুন বিবৃতি দেয়।







