সাত সকালে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশ। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক শূন্য। ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে উপকেন্দ্রসংলগ্ন গ্রামগুলোতে উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে দেশটির রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের সারান্দ এলাকায় ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানায়। খবরে বলা হয়, রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে।
সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে উপকেন্দ্রের কাছাকাছি কয়েকটি গ্রামে দুটি উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
মূলত আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষস্থলে অবস্থানের কারণে ইরান বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। এই দুটি প্লেটের ক্রমাগত নড়াচড়ার কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। বিশেষ করে খুজেস্তান, কেরমানশাহ ও হরমোজগানের মতো পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
বেশিরভাগ ভূমিকম্পের মাত্রা কম হলেও অগভীর গভীরতায় সৃষ্ট কম্পন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এ ধরনের ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠে বেশি অনুভূত হয় এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করে।
এর আগে গত জুনে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশে ৫ দশমিক শূন্য মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তখন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।
দেশটিতে টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয়তার কারণে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছেন ভূকম্পবিদরা।







