বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়েছিল ইংল্যান্ডের। ফ্রান্সও শেষ চারে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল। তবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে হতাশা ঝেড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল থ্রি লায়ন্সরা। বুকায়ো সাকার হ্যাট্রিকে গতবারের রানারআপ ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে উড়িয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
মিয়ামি স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইংল্যান্ড। মাত্র তৃতীয় মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ডেকলান রাইস। ফ্রান্সের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বল পেয়ে দূরপাল্লার শটে গোল করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।
এরপর ১৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজরি কনসা। ডেকলান রাইসের নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে আরও চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স। সেই সুযোগে ৩৭তম মিনিটে তৃতীয় গোল পায় ইংল্যান্ড। মার্কাস র্যাশফোর্ডের তৈরি করা আক্রমণ থেকে গোল করেন বুকায়ো সাকা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও গোল করেন সাকা। ফলে বিরতিতে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই ফ্রান্সের জালে চারবার বল পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় তারা।
এদিন প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের আক্রমণভাগ ছিল দুর্দান্ত। সাকার গতি ও দক্ষতা ফ্রান্সের রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলেছে। অন্যদিকে ফরাসি প্রথমার্ধে দলকে দেখা গেছে ছন্নছাড়া। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তার সতীর্থরা আক্রমণে তেমন কোনো ধার তৈরি করতে পারেননি।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। প্রথমার্ধে দুর্দান্ত আধিপত্য দেখিয়ে ইংল্যান্ড ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিলেও দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তন ম্যাচটিকে রোমাঞ্চকর করে তোলে। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণে একের পর এক চাপ সৃষ্টি করে ফ্রান্স। সেই চাপ থেকেই ব্যবধান কমাতে শুরু করে তারা। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পে ফ্রান্সের হয়ে গোল করে ব্যবধান কমান। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ফ্রান্সের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন বারকোলা। এরপর ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আরও একটি গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনেন ফরাসি অধিনায়ক।
শেষ মুহূর্তে ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পেনাল্টির সুযোগ পায় ইংল্যান্ড। পেনাল্টিতে ফ্রান্সে জালে আবারও বল জড়ান সাকা। এতে হ্যাট্রিকের দেখা পান ইংলিশ এই তারকা। এছাড়া অতিরিক্ত সময়ের ৮ মিনিটে ইংল্যন্ডের হয়ে ৬ নম্বর গোলটি করেন বেলিংহাম।
এদিকে সমতায় ফেরার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাতে থাকে ফরাসিরা। এর ফল হিসেবে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ৬ মিনিটের সময় আবারও ইংলেন্ডের জালে বল জড়ান ফ্রান্সের ডেম্বেলে।
তবে শেষ পর্যন্ত ৬-৪ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও পরাজয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে ফ্রান্স।
সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছিল ইংল্যান্ডের। অন্যদিকে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে হতাশ হয়েছিল ফ্রান্স। ফলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি দুই দলের জন্যই ছিল বিশ্বকাপ শেষ করার শেষ সুযোগ। ম্যাচের আগে এই লড়াই নিয়ে দুই দলেই কিছুটা অনাগ্রহ থাকলেও মাঠে তার কোনো ছাপ দেখা যায়নি ইংল্যান্ডের খেলায়।
এই জয়ে সেমিফাইনালের হতাশা কিছুটা হলেও ভুলতে পারল ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে না পারলেও তৃতীয় স্থান নিয়ে দেশে ফিরছে তারা। অন্যদিকে ফ্রান্সের জন্য ম্যাচটি হয়ে উঠল হতাশার আরেকটি অধ্যায়।
এর আগে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতালির কাছে ২-১ গোলে হেরে চতুর্থ হয়েছিল ইংল্যান্ড। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় হওয়া ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমবার তৃতীয় স্থান অর্জন। একই সঙ্গে এটি ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ইংল্যান্ডের সেরা ফলও।







