পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা চুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, নতুন করে নৌ অবরোধ আরোপসহ একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটন ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে এবং কার্যত তা ভেঙে দিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে পুরো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়ার ঘোষণাও দিয়েছে ইরান।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, সংঘাত বন্ধে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার কোনও অংশই তেহরান এখন আর মানতে বাধ্য নয় বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটন শুধু চুক্তি লঙ্ঘনই করেনি, বরং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন নৌ অবরোধ আরোপের মাধ্যমে পুরো চুক্তিই কার্যত ভেঙে দিয়েছে।
এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ইরানের হামলার জেরে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন। এর পরই যুক্তরাষ্ট্রের সেনা থাকা বিভিন্ন দেশে নতুন করে হামলা শুরু হয় এবং যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতাও আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, ‘যে মূল্যই দিতে হোক না কেন, হরমুজ প্রণালির ওপর পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে ইরান’। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সাধারণ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরান ও ওমান— দুই দেশের মধ্যে ভাগাভাগি থাকে। তবে যুদ্ধকালীন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকা প্রয়োজন। গারিবাবাদি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কখনোই আলোচনার আবেদন করবে না ইরান।’
এদিকে পৃথক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা চুক্তির কার্যত অবসান ঘটিয়েছে বলে উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি মন্তব্য করেছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গারিবাবাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারককে (মেমোরেন্ডাম) কার্যত ভেঙে দিয়েছে’। তিনি আরও বলেন, ওই সমঝোতার অধীনে থাকা কোনও প্রতিশ্রুতিকেই এখন আর ইরান নিজেদের জন্য বাধ্যতামূলক মনে করছে না।
ইরানের এই উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এই কৌশলগত সমুদ্রপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার রক্ষায় তেহরান প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে গত এপ্রিলের মাঝামাঝি প্রথমবার ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে জুনের মাঝামাঝি সময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্বাক্ষরের একদিন পর তা তুলে নেয়া হয়।
ওই সমঝোতায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ৬০ দিনের আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত বাড়তে থাকায় সেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।
এদিকে নৌ অবরোধ পুনর্বহালের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হয়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে।







