বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের নাম কোভিড-১৯। আর ২০২০ সালে করোনা মহামারির আতঙ্কের রেশ যেন আজও কাটেনি। সম্প্রতি ভারতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর শোনা যাচ্ছে। দেশটির অন্ধ্রপ্রদেশে ৮ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজ্যজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, হাসপাতালগুলোতে আলাদা ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য ওডিশাও অন্ধ্রপ্রদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে কোভিড-১৯ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা মানা হচ্ছে। বিষয়টি সামনে আসতেই অনেকেই ভয় পাচ্ছেন যদিও ভারতের চিকিৎসকরা বলছেন ভিন্ন কথা।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে জানা যায়, চিকিৎসক সতর্ক করে বলেছেন এই পরিস্থিতি নিয়ে এখনও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কোভিড-১৯ মানেই নতুন মহামারির সূচনা নয়। কোভিড-১৯ এখন বিশ্বের অনেক দেশের মতোই একটি এনডেমিক প্যাটার্নে পরিণত হয়েছে যেটা সম্পূর্ণ নির্মূল হয়নি বরং বছরের বিভিন্ন সময় ফিরে আসে।
মুম্বাইয়ের গ্লেনইগলস হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, চেস্ট ফিজিশিয়ান, ব্রঙ্কোস্কোপিস্ট ডা. হরিশ চাপলে বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বর্তমান কোভিড সংক্রমণ মৃদু ধরনের এবং খুব কম রোগীকেই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। তবে বয়স্ক ব্যক্তি ও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল রোগে ভোগা রোগীদের বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করা উচিত।
প্রথম মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে ২৮ জুন। ৬০ বছর বয়সি ওই ব্যক্তি গুরুতর ফুসফুসের সংক্রমণ, কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুর পর করা আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় তার শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়। দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের কড়াপা জেলার ৪৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির। তিনি গুরুতর ফুসফুসের সংক্রমণ ও সংশ্লিষ্ট জটিলতায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হলে ৪০টি নমুনার মধ্যে ৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এদিকে মুম্বাইয়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কুমার শানুর ছেলে জান কুমার শানুও কোভিড-১৯ আক্রান্ত হন। তিনি জানান, ১২ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এবং বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ফ্লু নাকি কোভিড উপসর্গ
নয়াদিল্লির সংক্রামক রোগ বিভাগের প্রধান ও কনসালট্যান্ট ডা. অঙ্কিতা বৈদ্য জানান, কোভিড-১৯-এর প্রাথমিক উপসর্গ অনেকটাই সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো। এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি, সর্দি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, শরীর ও পেশিতে ব্যথা সেই সঙ্গে ডায়রিয়া। তবে তিনি বলেন, প্রতিটি জ্বর বা সর্দি-কাশিই যে কোভিড, তা নয়। উপসর্গ থাকলে অন্যদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
কারা বেশি ঝুঁকিতে
গুরগাঁওয়ের শালবি ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের প্রধান ডা. শিবা কল্যাণ বলেন, অধিকাংশ মানুষের শরীরে পূর্ববর্তী সংক্রমণ বা টিকার মাধ্যমে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তাই বর্তমান ভ্যারিয়েন্ট অনেকের ক্ষেত্রেই মৌসুমি ফ্লুর মতো হালকা অসুস্থতা তৈরি করছে। তবে নিচের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি—
- দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
- কিডনি, ফুসফুস, লিভার বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগী
- ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ
- ক্যানসারের চিকিৎসাধীন ব্যক্তি
- দীর্ঘদিন স্টেরয়েড সেবনকারী বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি
- বর্ষাকালে কি কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বেরে যায়?
ভারতীয় চিকিৎসক ডা. যতীন আহুজার মতে, বর্ষাকালে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ বাড়ে বিষয়টা এমন নয়। আসলে বৃষ্টির সময় মানুষ দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভেতরে থাকে অনেকে আবার ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করেন এতে বাতাস কম চলাচল করে। এতে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। একই সঙ্গে এসময় ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ অন্যান্য মৌসুমি ভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হয় তাই কোভিড-১৯ নাকি সাধারণ ফ্লু সেটা বুঝতেও সময় লেগে যায়। আর সে কারণেই বাড়তি সতর্কতা মানতে পরামর্শ দেন চিকিৎসক। তিনি ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন। সেই সঙ্গে নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখতে হবে। উপসর্গ থাকলে ভিড় বা জনসমাগমে মাস্ক ব্যবহার করা ভালো। বয়স্ক ও যাদের বিভিন্ন রোগ আছে তাদের বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।







