পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান রিজভীর

Post Image

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশ অনেক দিন অনেক রক্ত ঝরিয়ে, ব্যাপক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, অনেক আত্মত্যাগের বিনিময়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রহরী হিসেবে কাজ করছে এবং গণতন্ত্রের নিরাপত্তার প্রহরী হিসেবে কাজ করছে। সুতরাং এই সরকারের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত আছে। পরাজিত নানা শক্তি চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করতে পারে, ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে। তো সেটা যাতে করতে না পারে, এই কারণে আমরা আগে থেকেই সবাইকে সচেতন করছি এবং আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে। তারা (নেতাকর্মীরা) যাতে একেবারে পাহারাদারের মতো কাজ করেন। হিন্দু ধর্মের ভাই-বোনদের সঙ্গে নেতাকর্মীরা একযোগে কাজ করবে। শুধু এবারই নয়, আমরা গত দুর্গাপূজা, তার আগের দুর্গাপূজা, সমস্ত পূজাতেই আমরা একইভাবে দলের নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সহযোগিতা করতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেন রিজভী। কেউ যেন কোনো উসকানিতে দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্যকে কলঙ্কিত না করতে পারে, সে ব্যাপারে সজাগ থাকার কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের যে পূজা এবং তাদের উৎসবে আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের পাশে থাকা, তাদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য যে কাজগুলো করেছি, এবারও তাদের এই রথযাত্রা উৎসব—অন্যতম ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা—এবং তাদের এই আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে তাদের পাশে থাকবে এবং তাদের সঙ্গে থাকবে, যাতে কেউ কোনো উসকানি এবং কোনো ধরনের, মানে, এটিকে নিয়ে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারে।

তিনি বলেন, আজকে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ—হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, অন্যান্য যে সমস্ত নৃগোষ্ঠী আছে, সবাই ঐক্যবদ্ধ। তারা বুঝতে পেরেছেন, কারা বিভিন্ন সময়ে এই জাতির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করেছে, বিভাজন-বিভক্তি কারা করছে, এটা তারা (জনগণ) বুঝে গেছেন। এবং গত নির্বাচন এবং নানা সম্প্রদায়ের যে পূজা-পার্বণ হয়, তাদের উৎসব হয়, প্রত্যেকটিতে প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি এখানেই প্রমাণ করেছে যে, কোনো ধরনের অপশক্তি আর আমাদের এই জাতির যে মজবুত ঐক্য, এটাকে আর ভাঙতে পারবে না।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির পথে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, দেশকে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেখান থেকে যাতে কেউ কোনো এজেন্ট উসকানি দিয়ে কোনো কাজ করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে এ দেশের জনগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একইভাবে কাজ করবে। এবং অন্যান্য যে সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তি ও রাজনৈতিক দল আছে, তাদেরকেও আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, তারাও যাতে একইভাবে কাজ করেন। এবং এই রথ উৎসব, রথযাত্রার অনুষ্ঠানটি যাতে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে পারেন হিন্দু ধর্মের ভাই-বোনেরা।

প্রধানমন্ত্রীর কাজ তুলে ধরে রিজভী বলেন, সাধারণ মানুষের—একেবারে গরিব মানুষের—কষ্ট লাঘবের জন্য কর্মসূচি করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পরবর্তীতে হেলথ কার্ড—এগুলোতে সরকার গঠনের পরের দুই-তিন দিন থেকেই তিনি এটি বাস্তবায়ন করে গেছেন। খাল কাটার মাধ্যমে আমাদের নদী-নালাকে আরও বেশি প্রাণবন্ত, আরও বেশি সজীব করে তোলা। সজীব এই অর্থে, প্রাণবন্ত এই অর্থে—এর প্রবাহমানতা অব্যাহত রাখার জন্য... বর্ষা মৌসুমে বন্যার সময় খালে পানি জমবে এবং শুকনো মৌসুমে এটা দিয়ে সেচকাজ করা হবে, মৎস্য চাষ করা হবে। এই কারণেই তিনি এই বৃহৎ কর্মসূচি—যেটা তার বাবা নিয়েছিলেন, যেটা তার মা নিয়েছিলেন—সেটিকে নিষ্পন্ন করার জন্য, সেটিকে সুসম্পন্ন করার জন্য তিনি দিন-রাত বাংলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছেন।

মাঠপর্যায়ে কর্মরতদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কর্মসূচি সম্পাদন করার জন্য যারা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন, তারা যদি সঠিক তথ্য—কতটুকু কাজ হলো—সেই সঠিক তথ্য না দেন, তাহলে কিন্তু সরকার যতই ছোটাছুটি করুক, অন্ধকার নেমে আসবে। এই মাঠপর্যায়ে যাতে গতিশীলতা থাকে, তারা যাতে কোনো ধরনের প্ররোচক হয়ে কাজ না করেন, সরকারের কর্মসূচিগুলোকে যথার্থভাবে বাস্তবায়ন করেন, সেটা দেখভালের আহ্বান জানান তিনি।

প্রাইমারি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, অত্যন্ত মানবজনীন একটি কর্মসূচি—সেটা হচ্ছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। সেই স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে প্রায় ১৫০ উপজেলায় ৩০ লাখ প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের তাদের পুষ্টি এবং স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য টিফিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এটি সরকারের একটি মহৎ কর্মসূচি, যাতে স্কুলের ছাত্রদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ সাধনের প্রচেষ্টা রয়েছে।

যে সব স্কুলে ফিডিং খেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, সে সব এলাকার কর্মকর্তাদের জবাবদিহি ও শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেন রিজভী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

এই বিভাগের আরও খবর

রাজনীতি

সর্বশেষ খবর

হাসনাত আবদুল্লাহর কাছে ভোটে হারা সেই জসিমের দলের পদ স্থগিত

‘ভিপি নুরের নির্দেশ, ৫ লাখ টাকার কম হবে না’, আলোচিত সেই নেতা কারাগারে

‘ছাত্রদলে কোনো ছাত্র নেই’: সালমান মুক্তাদিরের মন্তব্যের জবাব দিলেন নাসির

সাইবার আইনের নামে জনগণের কণ্ঠ রোধ মেনে নেওয়া হবে না

শাহবাগে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, ৫ মাস পর প্রতিবেদন জমা দিল তদন্ত কমিটি

ডেঙ্গুতে একদিনে ১০ জনের মৃত্যু

ভারতীয় মাদ/কসহ ধরা পড়েও শাস্তি পাননি রাবি ছাত্রদল নেতা হাসিব

রাবিতে সাংবাদিকদের হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার চায় সিজেপি

সর্বাধিক পঠিত

ফজলুর রহমানকে ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা দক্ষিণ এনসিপির আহ্বায়ক ইসহাক, সদস্য সচিব শাহরিয়ার

বিএনপি নেতাকর্মীদের যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সিন্ডিকেটে দেশের মানুষকে জিম্মি করে ফেলা হয়েছে: শিবির সভাপতি

গত ৫২-৫৪ বছরেও দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হয়নি

রেজাল্টের আগ পর্যন্ত ভালো কি মন্দ হচ্ছে তা বলবো না: মুফতি ফয়জুল করিম

রাশেদের আক্রমণের মুখে তুষার বললেন, ‘কোথায় বিয়ে করেছি’

হেলমেট-চাপাতির রাজনীতি টিকবে না: আসিফ আকবর

সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক রেজা হাসান

শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে জামায়াতের ৪ এমপির ভোগান্তি